বাংলাদেশের জাহাজ শিল্প এবং বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন সিঙ্গাপুরকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে সিঙ্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত পরিবহন মন্ত্রী জেফ্রি সিও’র সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।
ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগের জন্য এখন একটি স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত পরিবেশ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরে শিপইয়ার্ড নির্মাণে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ এই খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।” তিনি সিঙ্গাপুরের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।
বে-টার্মিনাল ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ
উপদেষ্টা জানান, বিশ্বব্যাংক চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল নির্মাণে ৬৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্প বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমাবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী অক্টোবরের মধ্যে পিএসএ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে একটি চুক্তি সম্পন্ন হবে।
শিপইয়ার্ড নির্মাণে সহযোগিতা
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিপইয়ার্ড নির্মাণে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “সিঙ্গাপুরের জাহাজ শিল্পে উৎকর্ষ আমাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। এই সহযোগিতা বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পকে বিশ্বমানে নিয়ে যাবে।” সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী জেফ্রি সিও এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নাবিকদের জন্য কর্মসংস্থান
ড. সাখাওয়াত বাংলাদেশের মেরিন একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ নাবিকদের জন্য সিঙ্গাপুরে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ট্রানজিট ভিসা প্রদানের অনুরোধ জানান। সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য ট্রানজিট বা ওয়ার্কিং ভিসা প্রদানের উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ করা হবে।
আইএমও কাউন্সিলে সমর্থন
বাংলাদেশ ২০২৬-২৭ মেয়াদে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) কাউন্সিলের ক্যাটাগরি ‘সি’ সদস্যপদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। উপদেষ্টা এই নির্বাচনে সিঙ্গাপুরের সমর্থন কামনা করেন। জেফ্রি সিও বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেন।

