বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩১,৪৩২.০৮ মিলিয়ন বা ৩১.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য প্রকাশ করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১,৪৩২.০৮ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে নিট রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৬,৪৫০.০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১,৩৮৮.১২ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট রিজার্ভ ছিল ২৬,৩৯৯.৯৩ মিলিয়ন ডলার।
নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করে, যা আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করে নির্ধারিত হয়। এই হিসাবে নিট রিজার্ভ প্রকৃত বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ নির্দেশ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের স্থিতিশীল প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত পদক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। তবে, আমদানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে রিজার্ভের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে। এছাড়া, আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। এটি আমদানি ব্যয় মেটানো, ঋণ পরিশোধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রিজার্ভের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।

