নিদাহাস ট্রফিতে সাকিব প্রতিবাদ করেছিলেন, আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। সুফল পাননি। সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়ের মঞ্চটাই বেছে নিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অনিয়মের জবাবটা দিয়েছিলেন ব্যাট হাতে, কটূক্তিকে শক্তিতে পরিণত করে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন।
এ গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দৃশ্য। এবারের দৃশ্যটা ভিন্ন। চলছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ। যেখানে অনিয়ম নিত্য সঙ্গী, প্রতিবছরই বিতর্কের দোলে ভাসে টুর্নামেন্টটি। পক্ষপাতের দৃশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠে প্রতিনিয়ত।
এ থেকে ব্যতিক্রম নয় এবারের আসরও। সুপার লিগে ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে প্রাইম দোলেশ্বরের খেলা চলছিল গতকাল। রেকর্ড করেই স্কোরবোর্ডে আবাহনী জমা করে ৩৯৩ রান। জবাবটা ভালোই দেন প্রাইম দোলেশ্বরের ব্যাটসম্যানরা।
মাঝে বৃষ্টির বাঁধা। বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে ৩০ ওভারে প্রাইম দোলেশ্বর করে ২১৭ রান। বৃষ্টি আইনে তখন দোলেশ্বর এক রানে এগিয়ে। খেলা না হলে হারতে হবে আবাহনীকে। তখনই নাটকের শুরু। সাভারে বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে যেন জোর করেই হারানো হয়েছে প্রাইম দোলেশ্বরকে।
বৃষ্টি ঠিকমত থামেনি তখনও। এরই মাঝে উইকেটের উপর থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো কাভার। প্রস্তুতির সময় না দিয়েই নামানো হলো প্রাইম দোলেশ্বরকে। এ নিয়ে প্রতিবাদ আরাফাত সানির, যেন মনে করিয়ে দেয় নিদাহাস ট্রফির সাকিবকে। প্রাইম দোলেশ্বর দলের অধিনায়ক ফরহাদ রেজা অসহায়ের মত আম্পায়ারদের বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ।
পাঁচ ওভারে লক্ষ্য তখন ৬১ নির্ধারণ করা হয়। প্রাইম দোলেশ্বর পারেনি, হেরেছে ২০ রানে। সব কিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে জিতেছে নাটক, হেরেছে ক্রিকেট। ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটে কলঙ্কের যে দাগ লেপ্টে যাচ্ছে, তার দায়ভার কারকে নিবে?
বিশ্ব ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মত ঘটনা নেহাতই কম নয়। এর জন্য শাস্তিও পেতে হয়, জেলে যেতে হয়। কয়েকদিন আগে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে নিষিদ্ধ বর্তমানের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। রাস্তায় মারামারি করার অভিযোগে জেলে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস। টি২০’র নামে লীগগুলো হয়ে উঠছে জুয়ার আড্ডাখানা। এরই মাঝে প্রতিবছরই এমন কিছু বিতর্কিত ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট।
এসব ঘটনা শুধু ক্রিকেটকেই কলঙ্কিত করছে না, লেপ্টে দিচ্ছে এক কালো দাগ। ধ্বংস করছে ক্রিকেটের ইতিহাস, ঐতিহ্যের।
