বাড়তি রফতানি মূল্যে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু




দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখতে আমদানির বিকল্প নেই। এ কারণে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হয়। অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যটির ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম টানতে পেঁয়াজের ন্যূনতম রফতানি মূল্য (এমইপি) বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছে ভারত সরকার।
গতকাল থেকে পেঁয়াজের নতুন এমইপি কার্যকর হয়েছে। দেশের বাজারে চাহিদা সামাল দিতে ভারত থেকে বাড়তি মূল্যে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। এর জের ধরে স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দাম দুদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা।
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়। গতকাল দুপুর থেকে এ স্থলবন্দর দিয়ে নতুন এমইপির (টনপ্রতি ৮৫০ ডলার) বিপরীতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। দিন শেষে ভারত থেকে সাত ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। হিলি স্থলবন্দর কার্যালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়তি এমইপির কারণে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমে গেছে। এ স্থলবন্দর দিয়ে সাধারণত দৈনিক ৩০-৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও কিছুদিন থেকে তা ১০-১৫ ট্রাকে নেমে এসেছে। গতকাল মাত্র সাত ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে (১-২৩ নভেম্বর) হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৫৫টি ট্রাকে মোট ১১ হাজার ১৪৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গত মাসে এ স্থলবন্দর দিয়ে ৫৮৬টি ট্রাকে মোট ১১ হাজার ২৫২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।
নতুন এমইপির বিপরীতে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলেও ভারতীয় রফতানিকারকরা কম দামে আগে খোলা লেটার অব ক্রেডিটের (এলসি) বিপরীতে পণ্যটির রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খোকন সরকার জানান, নতুন এমইপির বিপরীতে ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি হচ্ছে। যেসব আমদানিকারক আগেই এলসি খুলেছেন, তাদের নতুন দামের আওতায় এলসি সংশোধন করতে হবে। এর পরই তারা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ বলেন, ভারত সরকার হঠাৎ করেই পেঁয়াজের এমইপি বাড়িয়ে টনপ্রতি ৮৫০ ডলার ঘোষণা করে। আগে পণ্যটি আমদানিতে ব্যয় হতো ৪০০-৫০০ ডলার। সেই হিসাবে পেঁয়াজের এমইপি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মূলত বন্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের জন্যই পণ্যটির এমইপি বাড়িয়েছে ভারত। দেশের বাজারে মসলাপণ্যটির চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য রেখে দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে রাখতে আমরা বাধ্য হয়েই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য বাড়তি এমইপির বিপরীতে এলসি খুলেছি। গতকাল কিছু পেঁয়াজ বন্দর দিয়ে দেশে এসেছে। এখন পুরনো এলসিগুলো পরিবর্তন করলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি আরো বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় পাইকারি বাজারে (ট্রাকসেল) গতকাল ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। দুদিন আগেও পণ্যটি মানভেদে কেজিপ্রতি ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে দুদিনের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়েছে। মো. হারুন উর রশীদ হারুন জানান, এমইপির পাশাপাশি টনপ্রতি ২ ডলার পরিবহন ব্যয় যুক্ত করে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে প্রায় ৮৫২ ডলার খরচ পড়ছে। বাড়তি আমদানি ব্যয়ের জেরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমদানি আরো বাড়লে কিংবা ভারতে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে এমইপি কমলে দেশেও পণ্যটির দাম কমবে বলে মনে করছেন তিনি।
আরও পড়ুন; হিলিতে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী    
পাইকারিতে আরেক দফা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম           
দাম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি বাড়াচ্ছে ভারত     
ভোমরা স্থলবন্দরেও কমেছে পেঁয়াজ আমদানি     
হিলিতে পেঁয়াজ আমদানি অর্ধেকে নেমেছে