বিশ্ব ব্যাংকের শীর্ষ পদে বিতর্কিত ম্যালপাস


david malpass #paperslife

ডেভিড ম্যালপাস বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

গত শুক্রবার এক সভায় বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদের সদস্যরা  সর্বসম্মতিক্রমে ১৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে মনোনীত করেন।  আগামী মঙ্গলবার থেকে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ব ব্যাংককে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত ম্যালপাস ২০১৬ সালে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। গত ফেব্রয়ারি মাসে ট্রাম্প এক বৈঠকে ম্যালপাসকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নের ঘোষণা দিলে বিতর্কের জন্ম হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফের সমালোচনা করে আসা মার্কিন এই অর্থনীতিবিদ বিশ্ব ব্যাংকের ভূমিকা খর্ব করতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকে।

এর আগে ডেভিড ম্যালপাস বলেছিলেন, বিশ্ব ব্যাংক অনেক বড় এবং তাদের উচিত মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে কম ঋণ দেয়া।

চীন প্রসঙ্গে তিনি বলেন মধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে চীনও আছে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী বলে যুক্তি দেন ম্যালপাস।

বিবিসি এক প্রতিবদেন মতে, ম্যালপাস এখন বিশ্ব ব্যাংকে যেসব পরিবর্তন আনতে পারেন তার মধ্যে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দরিদ্র দেশগুলোর প্রতি যে গুরুত্ব থাকে, সেই হার কমে আসতে পারে।

এছাড়াও, চীনকে ঋণ দেওয়া ঠেকাতে বিশ্ব ব্যাংককে চাপ প্রয়োগকারী ম্যালপাস গত বছর ঋণ বিতরণ পদ্ধতির সংস্কার বিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদের ২৫ সদস্যের সবাই প্রেসিডেন্ট পদে ম্যালপাসকে সমর্থন জানিয়েছেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার কিলবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীকে পরাজিত করা যাবে না বুঝতে পেরেই চীন ও অন্যান্য অংশীদাররা ম্যালপাসের বিপক্ষে যাননি বলেই তার ধারণা।

তাছাড়া, যেহেতু তারা দেখেছে যে, কেউ ট্রাম্পের বিরোধিতা করলে তিনি তাকে শাস্তি দেন, তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়তে চায় না।

২০১২ সাল থেকে বিশ্ব ব্যাংকের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন জিম ইয়ং কিম। ২০১৭ সালে পুনরায় তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন, ২০২২ সালে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার তিন বছর আগেই গত ৭ জানুয়ারি আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এরপর থেকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।