ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ৯০% পরিণত হয় বর্জ্যে


ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ৯০% পরিণত হয় বর্জ্যে


প্লাস্টিক দূষণ পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীনালা খাল-বিল সাগর এখন ক্ষতিকর প্লাস্টিকে সয়লাব। শহর নগর গ্রামের রাস্তাঘাটসহ যত্রতত্র প্লাস্টিকের ছড়াছড়ি। এসব প্লাস্টিক বোতল ও পলিথিন ব্যাগের বেশির ভাগই পুনর্ব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন না করে প্রাকৃতিক পরিবেশে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রভাব ২০১৮ সালে বারবার শিরোনাম হয়েছে। তালিকাভুক্ত পরিসংখ্যানে প্লাস্টিক বর্জ্যের যে হিসাব দেখা যাচ্ছে সেই হিসাবে বলা হয়েছে কী পরিমাণ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয় নি। তাদের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে যত প্লাস্টিক ব্যবহার হয় তার ৯০.৫% বর্জ্যে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের হিসেব অনুযায়ী, ২০৫০ সাল নাগাদ প্লাস্টিকের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ বিলিয়ন টন। স্থায়িত্ব এবং উপযোগিতার কারণেই ইস্পাত, সিমেন্ট এবং ইট ছাড়া মানুষের তৈরি আর সব কিছু থেকে এই জিনিসটির উৎপাদন হার বেশি।  আর এই বিশাল পরিমাণ উৎপাদিত প্লাস্টিকের প্রায় ৭৯ শতাংশই ছড়িয়ে পড়েছে খোলা প্রকৃতিতে। প্লাস্টিক বর্জ্যে দিনে দিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। বাংলাদেশে একটা সময় ছিল যখন বাজারে গেলে মানুষজন হাতে করে একটা চটের ব্যাগ নিয়ে যেতেন। কিন্তু আশির দশকে প্রথম বাজারে পলিথিনের ব্যবহার শুরু হয়। এর পর থেকে বাজারে যে ধরনের দোকানেই যান না কেন বিনে পয়সায় পলিথিনের ব্যাগ দেয়া শুরু হল। সহজে সকল দোকানে বিনে পয়সায় চাইলেই পলিথিনের ব্যাগ পাওয়া যায়। পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক পরের দিকে পলিথিন ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু তা এতটাই বড় বিপর্যয় ডেকে আনে যে, ব্যবহার শুরুর ১৫ থেকে ২০ বছরের মাথায় ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে এর উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়। শুরুর দিকে বেশ কড়াকড়ি হলেও ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে যায় আইনের প্রয়োগ।আর এখন বাংলাদেশে এটি যে নিষিদ্ধ তার বোঝারই কোন উপায় নেই। র্বতমানে বলতে গেলে বাড়ির দরজা থেকে শুরু করে নদী, নালা, ড্রেন সবখানেই মিশে গিয়ে যেন পৃথিবীর শ্বাসরোধ করে ফেলেছে প্লাস্টিক সামগ্রী।