মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের মধ্যে ৩০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। এছাড়াও, প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও তিনটি অনু সমঝোতা সই হয়।
প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত অত্যাধুনিক সামরিক সম্ভার কিনবে। সেগুলোর মধ্যে থাকবে অ্যাপাচি ও এমএইচ-৬০ রোমিও হেলিকপ্টার। এ ছাড়া যে তিনটি অনু চুক্তি হয়েছে, তার একটি মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত। অন্য দুটির একটি চিকিৎসা পণ্যের নিরাপত্তা, অন্যটি জ্বালানি ক্ষেত্রে। ভারতের ইন্ডিয়ান ওয়েল করপোরেশনের সঙ্গে অনু চুক্তি হয়েছে মার্কিন সংস্থা একসন মোবিলের।
প্রতিরক্ষা চুক্তি ছাড়াও ট্রাম্প জানান, ৫জি স্পেকট্রাম নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়েও ভারতের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি যাতে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তা দেখা দরকার।
৫-জি স্পেকট্রাম সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বেশ সাবধানী। ভারতে এই প্রযুক্তির ট্রায়ালে চীনা সংস্থা হুয়াউই যাতে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু ভারত চীনা সংস্থাকে সেই সুযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প চান, ভারত এই বিষয়ে সাবধানী হোক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক এত ভালো অতীতে কখনো ছিল না। দুই দেশই চমৎকারভাবে এগিয়ে চলেছে।
হায়দরাবাদ হাউসে আজ এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাশে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘সার্বিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশ অনেকটাই এগিয়েছে। আমি আশাবাদী, আগামী দিনে দুই দেশের পক্ষেই গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি আমরা করতে পারব।’ ট্রাম্প আরও বলেন, তাঁর গত চার বছরের শাসনে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি ৬০ শতাংশ বেড়েছে। উচ্চমানের মার্কিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির (এনার্জি) রপ্তানি বেড়েছে ৫০০ গুণ।
যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, গত আট মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে এটা তাঁর পঞ্চম সাক্ষাৎ। এখন এটা আরও ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে, এই সম্পর্ক স্রেফ দুই দেশের সরকারের মধ্যে নয়, এই সম্পর্ক জনতার দাবি মেনে। এই সম্পর্ক জনমুখী। মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে গণতান্ত্রিক উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে।
ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া আজ দিল্লি সরকার পরিচালিত একটি স্কুল পরিদর্শন করেন।

