এক ভিক্ষুকের এক মাসের আয় ২৩ টাকা! বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহুবিধ সামাজিক সমস্যা গুলোর মধ্যে প্রধান এবং বড় একটি সমস্যা হলো ভিক্ষাবৃত্তি যেটি পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পূর্বে এর হার কম থাকলেও দিন দিন যেন এর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি যেন হয়ে উঠছে একটি লাভজনক ব্যবসায়। এরই জের ধরে সম্প্রতি আরব আমিরাতের দুবাই শহরে নবজাতককে নিয়ে ভিক্ষা করা অবস্থায় এক নারীকে গ্রেফতার করেন ওই দেশের পুলিশ।
এরপর গত ৪ মে দুবাইয়ে এক ভিক্ষাবিরোধী সমাবেশে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তারা প্রকাশ করেন। দুবাই পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ‘ওই ভিক্ষুক আরব আমিরাতের বাসিন্দা নন। এক পর্যটন কোম্পানির মাধ্যমে ভ্রমণ ভিসায় দুবাইতে এসে ভিক্ষাবৃত্তিতে লিপ্ত হন তিনি। গত এক মাসে তার আয় ১ লাখ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩ লাখ টাকা)।’
ওই কর্মকর্তা জানান, টুরিস্ট হয়ে দুবাই এসে ভিক্ষা করছে এমন ব্যক্তি ধরা পড়লে যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এসেছেন তার ২ হাজার দিরহাম জরিমানা হবে।
এই কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটলে ওই প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। বিভিন্ন দেশ থেকে বেশ কিছু মানুষ দুবাই এসে ভিক্ষাবৃত্তিতে যোগদান করেছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন কেবল এই ব্যক্তিই নয় বরং ভিক্ষা করে মোটা অংকের অর্থ আয় করা এক নারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি আমরা।
এ পেশায় বেশি অর্থ উপার্জন করতে তিনি এক নবজাতককে ব্যবহার করেছিলেন। সাধারণত দুবাইয়ে ভিক্ষুকের সংখ্যা বাড়েই রমজান মাসে। কারন ধর্মীয় অনুভূতিকে হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করে এসময় তারা ভিক্ষা করে লাভবান হন অন্যান্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশী। দেশটির সংবাদমাধ্যম দুবাই পুলিশের বরাত দিয়ে এ বিষয়ে একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে। যেখানে উল্লেখ আছে, ২০১৮ সালে দুবাই থেকে গ্রেফতার হয় ২৪৩ জন ভিক্ষুক। ২০১৭, ২০১৬ ও ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৬৫৩, ১ হাজার ২১ ও ১ হাজার ৪০৫। সে হিসেবে দুবাইয়ে ভিক্ষুকের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ভিক্ষুক কমার কারন হিসেবে গ্রেফতারকেই দেখছেন সেখানকার স্থানীয় পুলিশ।

