মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বীরদর্পী কুচকাওয়াজ



মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও চোখ ধাঁধানো ফ্লাইপাস্ট। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর শৌর্য ও আভিজাত্যের এক অনন্য প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করল দেশবাসী।


উৎসবমুখর প্যারেড স্কয়ার: বরণ ও অভিবাদন

বসন্তের রোদ ঝলমলে সকালে উৎসবের আমেজে সেজেছিল জাতীয় প্যারেড স্কয়ার। ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১০টা বাজার কিছু সময় পরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।

এরপর একটি সুসজ্জিত খোলা জিপে চড়ে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিএনসিসি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট অংশ নেয়। তাদের সুশৃঙ্খল মার্চপাস্ট এবং শৃঙ্খলার প্রতিটি ধাপ উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

আকাশে শক্তির মহড়া: মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট

কুচকাওয়াজের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট। আকাশের নীল ক্যানভাসে যুদ্ধবিমানের গর্জন আর রঙিন ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি করে পাইলটরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন। হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের এই ‘এরোবেটিক ডিসপ্লে’ প্যারেড স্কয়ারে উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থীকে রোমাঞ্চিত করে তোলে। মাটির ওপর সুশৃঙ্খল মার্চপাস্ট আর নীল আকাশে বীরত্বের মহড়া—সব মিলিয়ে এক অপরাজেয় বাংলাদেশের চিত্র ফুটে ওঠে সেখানে।

আভিজাত্য ও দর্শনার্থীর ভিড়

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ। বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান। এছাড়াও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রাষ্ট্রের কূটনীতিক, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা সারিবদ্ধভাবে এই গৌরবোজ্জ্বল উদযাপন উপভোগ করেন।

তবে কেবল ভিআইপিরাই নন, স্বাধীনতার আনন্দ ভাগ করে নিতে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছিল প্যারেড স্কয়ারের নির্ধারিত গ্যালারিতে। লাল-সবুজের পতাকা হাতে শিশুদের উল্লাস আর দেশাত্মবোধক গানের সুর পুরো এলাকাকে এক অনন্য দেশপ্রেমের আবহে আচ্ছন্ন করে রাখে।

অনুষ্ঠানের মূল আলোকপাত:

  • প্রধান অতিথি: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

  • অভ্যর্থনাকারী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • অংশগ্রহণকারী: তিন বাহিনীর কন্টিনজেন্টসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।

  • বিশেষ আকর্ষণ: বিমানবাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর ফ্লাইপাস্ট ও প্যারেড পরিদর্শন।

  • বিশিষ্ট উপস্থিতি: জাইমা রহমানসহ বিদেশি কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


স্বাধীনতার মর্মবাণী ও আগামীর শপথ

প্যারেড স্কয়ারের এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন কেবল শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং এটি ৫৪ বছরের সার্বভৌমত্বের এক বলিষ্ঠ ঘোষণা। কুচকাওয়াজের প্রতিটি কদমে কদমে ধ্বনিত হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা। উপস্থিত সুধীজনদের মতে, এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের সঞ্চার করে এবং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা দৃঢ় করে।

উপসংহারে বলা যায়, আজকের এই কুচকাওয়াজ ছিল শৃঙ্খলা, সাহস এবং জাতীয় ঐক্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একযোগে এই জাতীয় উৎসবে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতারই প্রতীক।