মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিচার করতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র




বৈঠকে তিনি বলেন, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ একটি নৃগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে যে নির্মম অভিযান চালাচ্ছে সে কথা বলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিধা থাকা উচিত নয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অবশ্যই মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের অবশ্যই দায়িত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং অপরাধের জন্য বিচারের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এমন যে কোনো দেশের উচিত, মিয়ানমার পর্যাপ্ত জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আগ পর্যন্ত তা বন্ধ রাখা।
জাতিসংঘে নিযুক্ত এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত রাখতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জনগণের মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান হ্যালি।
নিকি হ্যালি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর যে সদস্যদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, তাদের নির্দেশনা দেওয়ার মতো দায়িত্বশীল পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দিতে হবে। অভিযুক্ত সেনাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তাদের সহিংসতার মুখে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে জাতিসংঘ।
রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া না মেলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন, মিশর, সেনেগাল ও কাজাখস্তানের অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদ এই বৈঠকে বসে।