মিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণ, গোলাগুলি




রাজধানীর মিরপুর মাজার রোডে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা ছয় তলা ভবনে পরপর চারটি বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভবনটিতে আগুন দেখা গেছে এবং প্রবল গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।
আজ রাত পৌনে ১০ টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বোমার স্প্লিন্টারে র‌্যাবের চার সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে সন্ধ্যায় ভবনে অবস্থানরত জঙ্গি আব্দুল্লাহ আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছিল র‌্যাব।
র‌্যাবের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ একজন ‘দুর্ধর্ষ জঙ্গি’, যে ২০০৫ সাল থেকে সে জঙ্গিবাদে জড়িত। মিরপুর মাজার রোডের দীর্ঘদিনের এই বাসিন্দা ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজে জড়িত।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ দুপুরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই সহযোগীসহ মোট সাতজন ওই ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থান নিয়ে আছে। সে র‌্যাবকে বলেছে, তার কক্ষে ৫০টির মত আইইডি আছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ রয়েছে। গত রাতে অভিযান শুরুর পর ওইদিক থেকে গুলি করা হয়েছিল। তার কাছে একটি পিস্তলও থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।’
মুফতি মাহমুদ খান বিকালে বলেছিলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন তারা। যতবারই ফোনে তার সঙ্গে র‌্যাব যোগাযোগ করেছে, ততবারই সে ভাবার জন্য সময় নিয়েছে।
সময় নেওয়ার ছলে আবদুল্লাহ অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে পরামর্শ করছে কি না, সে প্রশ্ন তখন এড়িয়ে যান র‌্যাবের গণমাধ্যম পরিচালক।
সন্ধ্যায় আবদুল্লাহর রাজি হওয়ার খবর জানাতে এসে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো ক্যাজুয়ালটি যাতে না হয়। আমরা আত্মীয়দের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাকে রাজি করাতে চেয়েছি।কিছুক্ষণ আগে সে রাজি হওয়ার সংকেত দিয়েছে।’
কীভাবে এই সংকেত পাওয়া গেল- তা জানিয়ে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আবদুল্লাহ আত্মসমর্পণে রাজি থাকলে তার এক স্ত্রী ও এক সন্তান বারান্দায় এসে হাত নেড়ে কথা বলবে। সন্ধ্যার দিকে ঠিক তাই তারা করেছে।
মাজার রোডের পাশে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দক্ষিণে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ২/৩-বি হোল্ডিংয়ে ছয় তলা ওই বাড়ির মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেও পরিবার নিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকেন। ওই ভবন থেকে ৬৫ জনকে সরিয়ে এনে স্থানীয় একটি স্কুলের রাখা হয়েছে।