মুক্তামনির হাতে তৃতীয় অস্ত্রোপচার চলছে




এর আগে গত ২৯ অগাস্ট মুক্তামনির দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার শুরু করা হলেও জ্বরের কারণে পরে তাকে কেবিনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সামন্তলাল বলেন, ‘আশা করছি তৃতীয় এই অপারেশনে আমরা সফল হব। আজ সাতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অপারেশনে যুক্ত আছেন।’
মুক্তামনির প্রথম অস্ত্রোপচার হয় গত ১২ অগাস্ট। সেদিন ২০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল প্রায় আড়াই ঘণ্টার জটিল সেই অপারেশনে অংশ নেন।
হাতে বিকট আকৃতির ফোলা নিয়ে গত ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয় মুক্তামনি। তার রোগটি ‘হাইপারকেরাটসিস’ বা স্কিন ক্যান্সার হতে পারে বলে প্রথমে ধারণার কথা বলেছিলেন চিকিৎসকরা।
রোগ শনাক্ত করতে গত ৫ অগাস্ট তার হাতের টিস্যু সংগ্রহ করে বায়োপসি করা হয়। পরে ডা. সামন্তলাল সেনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড মুক্তামনির রোগটি হেমানজিওমা বলে শনাক্ত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, হেমানজিওমা হলো শিশুদের রক্তনারীর মধ্যে টিউমার, যেগুলো সাধারণত ক্যান্সারপ্রবণ হয় না। এরকম টিউমার শিশুদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। ত্বকের উপরিভাগে লাল গুটির মত দেখতে এই টিউমার বেশিরভাগ সময় চিকিৎসা ছাড়াই মিশে যায়। অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রে এই টিউমার বড় কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে ফেটে গেলে তা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে; রক্তপাতও হতে পারে।
আবার টিউমারের আকার ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে এটা বিকৃত হয়ে যেতে পারে এবং স্নায়তন্ত্র বা মেরুদণ্ডের ওপর হলে জটিলতা বড় হয়ে দেখা দিতে পারে। ত্বক ছাড়াও যকৃত ও ফুসফুসের মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গেও হেমানজিওমা হতে পারে।
মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন জানান, দেড় বছর বয়সে মুক্তার ডান হাতে একটি ছোট গোটা দেখা দেয়। পরে তা বাড়তে বাড়তে বছর চারেক আগে এমন পর্যায়ে যায় যে স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হয়। ১২ বছরের এই মেয়েটির আক্রান্ত হাতটি ফুলে দেহের চেয়ে ভারি হয়ে উঠলে তার শরীর শুকিয়ে যেতে শুরু করে। ওই হাতের কারণে সে সব সময় যন্ত্রণায় অস্থির থাকত বলে জানান তার বাবা।