অবশেষে জননিরাপত্তা আইনে ছয় মাসের বেশি গৃহবন্দি থাকার পরে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সরকার।
শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্র দফতর এক নির্দেশিকা জারি করে সাবজেল গুপকার হাউসে বন্দি ফারুক আবদুল্লার উপর থেকে জনস্বার্থ আইনজনিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা করে।
মুখ্য স্বরাষ্ট্র সচিব শালীন কাবরা স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘১৯৭৮ সালের জম্মু ও কাশ্মীর জননিরাপত্তা আইনের ১৯(১) ধারায় উল্লিখিত ক্ষমতাবলে শ্রীনগরের জেলাশাসকের দ্বারা ১৫/০৯/২০১৯ তারিখে ডক্টর ফারুক আবদুল্লার, পিতা প্রয়াত শেখ মহম্মদ আবদুল্লা, নিবাস গুপকার উপর জারি করা আটকের নির্দেশ যা ১৩/১২/২০১৯ তারিখে তিন মাস বৃদ্ধি করা হয় এবং আবার ১১/০৩/২০২০ তারিখে আরও তিন মসের জন্য বৃদ্ধি করা হয়, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে সরকার।’
সম্প্রতি বিরোধীদের একাংশ যৌথ বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের আটক তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতির মুক্তির দাবি জানান। তাঁরা অভিযোগ করেন, অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্দি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারকে সরাসরি লঙ্ঘন করছে সরকার। বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্ত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে সই করেন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা জনতা দলের (সেকুলার) নেতা এইচ ডি দেবে গৌড়া, এনসিপি সভাপতি শরদ পাওয়ার, সিপিএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা এবং আরজেডি-এর রাজ্য সভা সাংসদ মনোজ কুমার ঝা।
লোকসভার সাংসদ তথা পূর্বতন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে তিন বার ক্ষমতায় থাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৮২ বছর বয়েসি ফারুক আবদুল্লাকে গত ৫ আগস্ট আটক করা হয় এবং পরে জম্মু ও কাশ্মীর জননিরাপত্তা আইনের আওতায় ফের বন্দি করা হয়।
সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

