রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালাচ্ছে: সু চি




অবশেষে প্রথমবারের মত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মুখ খুললেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি।  জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে চাই।  এসময় তিনি সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানান।
আজ মঙ্গলবার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সু চি এ কথা বলেন। তাঁর ভাষণ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘রাখাইন সহিংসতায় সব মানুষের দুর্ভোগ গভীরভাবে অনুভব করেন তিনি।  রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে চাই।’
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর বলেন, ‘আমরা শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা রাখাইনে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা শান্তি চাই, ঐক্য চাই। যুদ্ধ চাই না।’
বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের সত্যাসত্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া যেকোনো সময় শুরুর ব্যাপারে মিয়ানমার প্রস্তুত বলে জানান সু চি। মিয়ানমারের রাখাইনে সবশেষ সহিংসতা শুরুর পর এই প্রথম প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেন সু চি। রাখাইনে চলমান দমন-পীড়নের মুখে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটে এত দিন নীরব থাকায় সমালোচিত হচ্ছিলেন সু চি
অন্যকে দোষারোপ করা বা দায়িত্ব এড়ানো মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য নয় উল্লেখ করে সু চি বলেন, ‘আমরা সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি সহিংসতার নিন্দা জানাই। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আছে। তাঁদের সব কথাই শুনতে হবে। কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অভিযোগগুলো যে তথ্য–প্রমাণনির্ভর, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
পরিস্থিতি দেখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইন পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন সু চি। এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বলেছেন, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে তাঁর সরকার কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাখাইন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে মিয়ানমার সরকার ভীত নয় বলে উল্লেখ করেন সু চি। তিনি বলেন, মিয়ানমার একটি নবীন ও ভঙ্গুর দেশ। তাঁরা অনেক সমস্যা মোকাবিলা করছেন। সব সমস্যাই মোকাবিলা করতে হবে। কিছু সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না।
রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করলেও তাদের নাগরিকত্ব এবং চলাচলের স্বাধীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকারগুলো দেয়া হয় না। গত মাসে সশস্ত্র রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থানে হামলা চালালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হয়, যাতে এ পর্যন্ত ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত, ৬ হাজার ৮০০-এর বেশি বাড়িঘর ধ্বংস এবং প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সেনাবাহিনী তাদের দেশ থেকে তাড়ানোর অভিযান শুরু করেছে।