সময়গুলো খুব দ্রুত চলে যায়। সেই চলে যাও সময়ে হারিয়ে যায় প্রিয় মুহূর্তগুলো। লিওনেল মেসির বয়স এখন ৩২। আর বছর কয়েক, এরপরই বুট জোড়া তুলে রেখে বিদায় জানাবেন ফুটবল এই মহাতারকা। এরপর কি হবে? পুরো বিশ্বে মেসির অগণিত ভক্তকুল হয়ত কল্পনায়ও মেসির বিদায় দেখতে চাইবেন না। সেই জন্য মেসির ক্লোন বানানোর চিন্তা করছেন ইউরোপিয়ান জিনোম আর্কাইভের জিন-বিশেষজ্ঞ আর্কাদি নাভারো।
মেসির ‘ক্লোন’ যে তাঁর মতোই ফুটবলের মহাতারকা হবে, নাভারো সেই নিশ্চয়তা অবশ্য দিচ্ছেন না।
তাঁর ভাষায়, ‘বংশগতিবিদ্যা আমাদের একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। মেসির সব গুণ-ই সে হয়তো পাবে, কিন্তু মেসির ফুটবল প্রতিভায় দুটি বিষয় মূল। একটি হলো, সে খুব চালাক এবং তা বংশানুগতিক। আরেকটি তাঁর শিক্ষা-দীক্ষা ও পরিবেশ। মেসি মেসি-ই এবং তা শুধু বংশানুগতির ওপর নির্ভর করে না। লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা, হরমোন চিকিৎসা এবং পরিবেশের ওপর নির্ভর করেই সে বেড়ে উঠেছে। বংশগতিবিদ্যা শুধু একটা সম্ভাবনা দেখাতে পারে। মেসির ক্ষেত্রে তা পরিপূর্ণভাবে সম্পাদিত হবে কি না, সেটি তখনকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে।’
ক্লোন করা মানুষ হুবহু একই রকম দক্ষতার হয় কি না, এ নিয়ে সদুত্তর মেলে নি আজো। নাভারো মনে করেন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে মেসির ‘ক্লোন’ বানানো সম্ভব। ইউরোপিয়ান জিনোম আর্কাইভের জিন-বিশেষজ্ঞ আর্কাদি নাভারো ঠিক এমনই এক বৈপ্লবিক কিছুই ভেবেছেন।
এ নিয়ে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা মেসির খুব কাছাকাছি কাউকে পেতে পারি। বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর (মেসি) “ক্লোন” করা সম্ভব, যাকে দেখে যমজ বলেই মনে হবে। ব্যাপারটা এমন হবে যে, দুজন যমজ জন্ম নিয়েছে এর মধ্যে একজনকে রাখা হবে “টাইম চেম্বার”-এ। ২০-৩০ বছর পর আমরা তাঁকে (টাইম চেম্বার থেকে) ফিরিয়ে আনব সঠিক সময়ে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সে সবকিছুতেই একই রকম হবে।’
বেশ কয়েকবছর পর মেসি অবসর নিলেন। এরও কিছুদিন অতিবাহিত হলো। হঠাৎ আবার মাঠে নামলেন মেসি। আসলে মেসির ক্লোন। যিনি দেখতে হুবহু পাঁচবারের বর্ষসেরা আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকার মতো, আবার খেলার ধারও একই রকম। তবে অবাক না হয়ে উপায় থাকবে না। আবারো ফুটবলের এই খুদে জাদুকরের পায়ের জাদুতে মত হবে গোটা পৃথিবী।
সেসব অবশ্য পরের বিষয়। আগে ক্লোন তৈরির জন্য অনুমতি আদায় করতে পারবে কি?

