সাবেক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হুসেনকে হত্যার হুমকি ও নিজের দুই মেয়েকে অপহরণ করে দুবাইয়ে আটকে রেখেছিলেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম।
গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ আদালত গত বছর দুই সন্তানকে নিয়ে দুবাই থেকে পালিয়ে আসা তার সাবেক স্ত্রীর এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
সাক্ষ্য প্রমাণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবারের রায়ে আদালত জানায়, তারা শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অন্য স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া নিজের দুই মেয়েকে অপহরণ ও জোর করে দুবাই ফিরিয়ে নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।
এদের মধ্যে শেখা শামসা ২০০০ সালে ব্রিটেনের সারি কাউন্টির পারিবারিক বাসভবন থেকে পালিয়ে যান। পরে শেখের লোকেরা তাকে ক্যামব্রিজশায়ার থেকে অপহরণ করে দুবাইতে নিয়ে যায়। তার বন্দিদশার কথা জানতে পেরে ব্রিটেনের পুলিশ দুবাইতে তদন্ত করতে চাইলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাতে অনুমতি দেয়নি।
অপর মেয়ে শেখ লতিফা ২০০২ সালে বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। ধরা পড়ে যাওয়ার পর তিন বছর তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় দফা পালানোর চেষ্টা করেও ভারতীয় উপকূলের কাছে সমুদ্র থেকে বাবার লোকজনের হাতে ধরা পড়েন লতিফা।
বাবার নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে লতিফা যে ভিডিও বার্তা ছেড়েছিলেন, আদালত সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলেও রায় দিয়েছে।
এ রায়ের বিষয়ে আদালত বলেন, “দুবাইয়ের শাসক যে আদালতের প্রতি খোলামেলা ও সৎ নন, তা প্রমাণিত হয়েছে।”
এদিকে রায় প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে শেখ মোহাম্মদ বলেছেন, “সরকারপ্রধান হিসেবে আমি আদালতের তথ্য অনুসন্ধানী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারিনি। যে কারণে প্রকাশিত রায় একপেশে হয়েছে।” দুবাইয়ের শাসক মামলাটিকে ‘একান্ত ব্যক্তিগত’ ব্যাপার বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

