দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রেসিপেন্সিয়াল প্যালেসে আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদী।
এসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, রাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক নেতাসহ আট হাজার আমন্ত্রিত অতিথির সামনে এই শপথ গ্রহণ করেন মোদি। এছাড়াও, তার নবগঠিত মন্ত্রিসভায় মোট সদস্য সংখ্যা ৫৮ জন। শপথের জন্য মোদির নাম ডাকার সময় থেকেই শুরু হয় হর্ষধ্বনি। শপথ শেষেও জয়োধ্বনি ওঠে মোদির নামে।
আজ ৫৮ জন সদস্যের মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৯ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হন। মন্ত্রিসভায় নারী সদস্য রয়েছেন ৬ জন। জানা যায়, এবারের গঠিত মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ ১৯ জন।
মোদির শপথ গ্রহণের পর শপথ নেন রাজনাথ সিং। তিনি আগের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। এরপরই আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের সহচর ও ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত বিজেপি সভাপতি অমিত অনিলচন্দ্র শাহ। জানা যায়, টানা দুইবারের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ে মোদি–শাহ জুটির ব্যাপক অবদান রয়েছে। তাছাড়া, অমিত শাহ বিজেপির সভাপতি। অমিত শাহের পর একে একে শপথ নেন নিতিন জয়রাম গড়কড়ি, ডিবি সদানন্দ গোড়ৌ, নির্মলা সীতারমন, রামবিলাস পাসোয়ান, নরেন সি টোমার, রবিশংকর প্রসাদ, সাবেক পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর, স্মৃতি জুবিন ইরানী।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, প্রবীণ বিজেপি নেতা এল কে আদভানি, মুরলি মনোহর যোশী, কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ।
শপথ নেওয়ার পর এক টুইটার বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতের সেবায় নিয়োজিত হতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। নতুন এ মন্ত্রিসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরী আছেন।
আট হাজার আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা ছিলেন। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
নতুন এ মন্ত্রিসভায় আগের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নেই। এছাড়াও, গতকাল স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিসভায় না থাকতে অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি দেন অরুণ জেটলি।
উল্লেখ্য যে, গত ২৩ মে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। ৫৪২ আসনের মধ্যে লোকসভায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩৫২ আসন পায়। এবং বিজেপি পায় ৩০৩ টি আসন।

