প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হচ্ছে ফুলের ভরা মৌসুম। স্বাধীনতা দিবস ও বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে এসময় ফুলের বাজার থাকে সরগরম। তবে এবার পালটে গেছে চিত্র।
নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশের মানুষ ঘরে অবস্থান করছেন। ফলে অনেক জিনিসের কেনাবেচা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। যার একটি হচ্ছে ফুল।
যশোর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে ফুলের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত গদখালী বাজার।
দূর-দূরান্ত থেকে ফুল কিনতে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আসতেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন রুটের বাসের ছাদে স্তূপ করে সাজানো হতো ফুল। পাঠানো হতো দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ঢাকা-চট্টগ্রামের মত বড় শহরে ট্রাক-পিকআপ ও ভ্যান ভরে ফুল যেত। গত ২৪ মার্চ থেকে গদখালি ফুলের বাজার বন্ধ রয়েছে। করোনাভাইরাস ফুল চাষিদের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে।
স্বাধীনতা দিবস ও বাংলা বর্ষবরণে ফুল বিক্রি করতে না পারায় এ অঞ্চলের ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বেচাকেনা বন্ধ থাকায় চাষিরা বাগান থেকে ফুল কেটে তা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে ফুল।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছার নন্দী ডুমুরিয়া গ্রামের গোলাম রসুল বলেন, তিনি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে গোলাপ, জবা, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাসের পাশাপাশি জারবেরা চাষ করেছেন। পরিবহন ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ফুলের বাজার বসছে না। কেনাবেচা নেই। এদিকে ফুল না কাটলে নতুন করে আর কুঁড়ি আসে না। তাই গোলাপ ফুল কেটে ছাগল-গরু দিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে।
ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, এ বছর তার উপজেলায় ২৭২ হেক্টর জমিতে গ্লাডিওলাস, ১৬৫ হেক্টর জমিতে রজনীগন্ধা, ১০৫ হেক্টর জমিতে গোলাপ, ৫৫ হেক্টর জমিতে গাঁদা, ২২ হেক্টর জমিতে জারবেরা ও অন্যান্য ফুল চাষ করা হয়েছে প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, চাষিরা ফুল বিক্রি করতে পারছেন না। আবার ক্ষেতে ফুল রাখতেও পারছেন না। উভয় সংকটে পড়েছেন তারা।

