যুক্তরাষ্ট্রের কথায় আফগানিস্তানে সেনা পাঠাবে না ভারত




মার্কিন প্রশাসনের সরাসরি অনুরোধ সত্ত্বেও এখনই আফগানিস্তানে সেনা পাঠাতে নিজেদের অনাগ্রহ জানিয়েছে ভারত। দিল্লিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের সঙ্গে বৈঠকের দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, অন্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও ‘আফগানিস্তানের মাটিতে ভারতীয় সেনাদের পা পড়বে না’।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিস সোমবারই নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। আজ মঙ্গলবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে ম্যাটিসের বৈঠক হয়েছে। আফগানিস্তানের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ছিল অন্যতম মূল আলোচ্য। ভারত এবং আমেরিকা যৌথ ভাবে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করবে কোন পথে, তা নিয়েও বিশদে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সন্তুষ্ট দু’পক্ষই।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী দিনকয়েক আগেই মন্তব্য করেছিলেন আফগানিস্তানে তারা ভারতকে কোনও ভূমিকাতেই দেখতে চায় না – কিন্তু দিল্লি এদিন আভাস দিয়েছে, কোনও সামরিক হস্তক্ষেপে না-জড়ালেও কাবুলের ওপর তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
গত মাসে যখন ভারতকে আফগানিস্তানে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নতুন নীতি ঘোষণা করছিলেন, তখন থেকেই পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে এ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহেই পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি নিউ ইয়র্কে বলেন, আফগানিস্তানে ভারতের রোল হওয়া উচিত ‘জিরো’। কিন্তু আজ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাতিস দিল্লি সফরে এসে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেছেন।
সন্ত্রাস ইস্যুতেও ম্যাটিস এবং সীতারামনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এ দিন। নির্মলা সীতারামন সে আলোচনায় বলেছেন, পাকিস্তান গোটা বিশ্বের সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর এবং সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য পাকিস্তানকে আরও চাপ দেওয়া উচিত আমেরিকার। যদি ম্যাটিস কখনও পাকিস্তান সফরে যান, তা হলে এই বিষয়ে তিনি যেন পাকিস্তানের উপর চাপ তৈরি করেন। ভারতের তরফে এমন দাবিই পেশ করা হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের সামনে।
ম্যাটিস নিজেও এ দিন বৈঠকের পর সন্ত্রাস নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভারত এবং আমেরিকা সন্ত্রাসের ভয়াবহ শিকার। আমরা যে হেতু সন্ত্রাস মুছে ফেলতে চাই, সে হেতু আমরা ভারতের সঙ্গে আরও নিবিড় ভাবে কাজ করতে চাই।’