রাখাইনে সবার নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে: সু চি




মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনীর দমন পীড়নে সারাবিশ্বে নিন্দার ঝড়ের মাঝে এই প্রথম মুখ খুলেছেন মিয়ানমারের নোবেল জয়ী নেত্রী অং সান সু চি। তিনি দাবি করেছেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
গতকাল মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে সু চি ওই দাবি করেন। দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়ে আজ সু চির দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ানকে সু চি বলেছেন, তার সরকার ইতিমধ্যে যথাসাধ্য উপায়ে রাখাইনের সব মানুষকে সুরক্ষা দিতে শুরু করেছে।
সু চি বলেছেন, ‘মানবাধিকার-বঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক সুরক্ষার অর্থ তারা খুব ভালো করেই জানেন। তাই তারা দেশের সব মানুষের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন। এটা শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও মানবিক অধিকারও বটে।’
সু চির দাবি, রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে প্রচুর অপতথ্য ছড়াচ্ছে। এই অপ-তথ্য সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। সহিংসতার মুখে লাখো রোহিঙ্গার মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার বিষয়ে সু চি কোনো মন্তব্য করেননি।
গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার পুলিশের বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতন শুরু হয়। নির্বিচারে হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ায় প্রাণে বাঁচতে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকতে থাকে।
এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও সংখ্যাটি ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার বলছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সূত্র।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, গত ১১ দিনে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র ভিভিয়ান তান গতকাল জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্থায়ী ও অস্থায়ী শিবিরগুলোয় গণনার পর শরণার্থীর এ সংখ্যা বেরিয়ে এসেছে।