রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হোক এনএইচআরসি, বললেন আসিফ নজরুল



আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো যখন আইন প্রণয়ন করে, তখন তারা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় রাখে এবং ক্ষমতা কতটা হাতে রাখা যায় সেটাই চিন্তা করে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য হলো ক্ষমতা সরকারের হাতে না রেখে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে হস্তান্তর করা, যাতে সত্যিকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্থাপন করতে চায়, যা দশকের পর দশক ধরে চলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাবে।

কক্সবাজারে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এবং ইউএনডিপির যৌথ আয়োজনে একটি পরামর্শ-কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন ড. আসিফ নজরুল। এই কর্মশালায় তিনি উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উচ্চ আদালত এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের পক্ষে শক্তি হিসেবে হাজির হয়েছে। সেই সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন সুরক্ষার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের পর কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ভুলে সংস্কারগুলো নষ্ট করে দেবে না—আমরা এতটা নিরাশাবাদী নই।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ পরামর্শক ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন। তিনি ‘প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। এই অধ্যাদেশটি সরকারের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয়েছে, যা মানবাধিকার সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হি. ই. রেটো সিগফ্রিড রেনগলি এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলার। এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের কক্সবাজারভিত্তিক মানবাধিকার কর্মকর্তা মি. ইফতেখার সায়েদ আলীও বক্তব্য দেন।

উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এমন কোনো কাঠামো না হোক যা শুধু সরকারকে সহায়তা করে। এটি স্বাধীন হতে হবে, তদন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন, যাতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলোর তদন্ত করতে পারে।

উন্মুক্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন। আলোচনার প্রতিফলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত হি. ই. নিকোলাস উইকস এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর মিসেস রোমানা শোয়েইগার। সমাপনী বক্তব্য দেন জোরপূর্বক গুম বিষয়ক অনুসন্ধান কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা এনএইচআরসি সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে এটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং কার্যকর হয়।