রাম রহিমের কাছে সন্তান চেয়েছিলেন পালিতকন্যা




ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের কাছে সন্তান চেয়েছিলেন তাঁর পালিত কন্যা হানিপ্রীত। সম্প্রতি এ দাবি করেছেন গুরদাস সিং তুর নামে রাম রহিমের এক অনুসারী।
তিনি বলেন, অনাগত সন্তানকে ডেরার সাচা সৌধার ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী বানাতে চেয়েছিলেন হানিপ্রীত।
গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে হানিপ্রীতের সাবেক স্বামী বিশ্বাস গুপ্ত দাবি করেন, পালিত কন্যা হলেও হানিপ্রীতের সঙ্গে রাম রহিমের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ডেরার ভেতর রাম রহিমের সঙ্গে হানিপ্রীতকে নগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে।
এদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাম রহিমের নিজের সন্তান জসমিত সিং ইনসান। ২০০৭ সালে তাঁকে ডেরার উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু হানিপ্রীতের কথায় শেষে মন পরিবর্তন করেন রাম রহিম।
রাম রহিমের বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন গুরুদাস সিং তুর। তিনি ডেরার একজন সাবেক অনুসারী। গুরুদাস সিং তুর বলেছেন, হানিপ্রীত ও রাম রহিম সন্তান চেয়েছিলেন। তবে কার ঔরসে সেই সন্তানের জন্ম, তা গোপন রাখার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। মূলত ডেরার ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী নির্বাচন করতেই হানিপ্রীত সন্তান চেয়েছিলেন।
গুরমিত সিং তুর বলেন, ‘জসমিত সিং ইনসানের বিপক্ষে ছিলেন রাম রহিম। তিনি জসমিতকে ডেরাপ্রধান বানাতে আগ্রহী ছিলেন না। ডেরার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন হানিপ্রীত। তিনি রাম রহিমের ঔরসে সন্তান ধারণ করতে চেয়েছিলেন। হানিপ্রীত ও রাম রহিম, দুজনই অনাগত সন্তানকে ডেরার ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী বানাতে চেয়েছিলেন। তাঁদের পরিকল্পনা এমনই ছিল।’
গুরুদাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হানিপ্রীতের সাবেক স্বামী বিশ্বাস গুপ্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাগত সন্তানের বাবা হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তবায়নের আগেই তা ভেস্তে যায়। কারণ হানিপ্রীতের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান বিশ্বাস গুপ্ত।
এর আগে ডেরায় থাকা কমপক্ষে দুই হাজার নারীকে রাম রহিম ধর্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছিলেন এক সাধ্বী। রাম রহিম কারাগারে যাওয়ার পর থেকে হরিয়ানায় সিরসার ডেরায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সেখানে অভিযানের শুরুর দিকে বিপুল পরিমাণ কনডম ও জন্মনিরোধক ওষুধ জব্দ করা হয়। ডেরার ভেতর সাধ্বী হোস্টেলে রাম রহিমের সরাসরি যাতায়াত ছিল। ওই যাতায়াতের জন্যই দুটি গোপন সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। এ ছাড়া ডেরায় পানির নিচে গোপন ‘সেক্স কেভ’ বা ‘যৌন গুহার’ সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডেরার প্রাসাদ চত্বরে যে সুইমিং পুল রয়েছে, তার নিচেই ওই ‘যৌন গুহা’ গড়ে তুলেছিলেন ডেরাপ্রধান রাম রহিম। গোপন গুহায় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ চালাতেন তিনি।
গত ২৫ আগস্ট দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে করা দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় রাম রহিমকে। এরপর নেওয়া হয় রোহতক শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের সানোরিয়া কারাগারে। এতে রাম রহিমের সমর্থকেরা পঞ্চকুলা এলাকায় তাণ্ডব শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩১ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত হন। পরে গত ২৮ আগস্ট রাম রহিমকে দুটি মামলায় ১০ বছর করে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন সিবিআই আদালত।