মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সর্বশেষ টুইটে বলেছেন ‘রাশিয়া প্রস্তুত হও’ – কারণ যে মিসাইল আসবে আসবে তা হবে ‘সুন্দর, নতুন এবং বুদ্ধিমান।’
তিনি আরো লিখেছেন, রাশিয়ার উচিত হয় নি ‘একটা গ্যাস-মারা জানোয়ারের সাথে’ মিত্রতা করা।
এর আগে লেবাননে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সিরিয়ার আমেরিকা ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লে রাশিয়া তা গুলি করে নামাবে। এমনকী যেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হবে, সেসব জায়গাকেও টার্গেট করবে রাশিয়া।
সিরিয়ার দুমায় শনিবার এক বোমা হামলায় বহু বেসামরিক লোকের মৃত্যুর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাক-বিতন্ডা দিন দিন ভয়ানক আকার ধারণ করছে। রাশিয়া আহ্বান জানিয়েছে যেন ওই আক্রমণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র কোন সামরিক পদক্ষেপ না নেয়।
কিন্তু আমেরিকা এবং তাদের দুই পশ্চিমা মিত্র – ফ্রান্স এবং ব্রিটেন বলছে, সিরিয়ার সরকার দুমায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এর জন্য প্রেসিডেন্ট আসাদকে শাস্তি পেতেই হবে।
সিরিয়ার সরকার এবং রাশিয়া বার বার বলছে, কোনো রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ দুমায় হয়নি। বরঞ্চ বিদ্রোহীরা নাটক সাজিয়ে আমেরিকাকে যুদ্ধে জড়াতে চাইছে। সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপিসিডিব্লিউকে দুমায় তদন্ত করতে দিতেও রাজী হয়েছে সিরিয়া।
কিন্তু সে ব্যাখ্যায় কান দিচ্ছেনা আমেরিকা। সিরিয়াকে দায়ী করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এক প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো দেওয়ার পর, আমেরিকা এবং ফ্রান্স সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ষ্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকিও দিচ্ছেন, খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে, রাশিয়া হুমকি দিয়েছে আমেরিকা সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে, তা গুলি করে নামানো হবে।
লেবাননে রুশ রাষ্ট্রদূত অলেক্সান্দার জাসিপকিন বলেন, আমেরিকানরা যদি আঘাত করে তাহলে তাদের ক্ষেপনাস্ত্র গুলি করে নামানো হবে, এমনকী যেসব জায়গা থেকে ক্ষেপনাস্ত্র ছোঁড়া হবে, সেসব জায়গাগুলোকেও টার্গেট করা হবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং রুশ সামরিক কম্যান্ডাররা সেই ঘোষনাই দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, সিরিয়া নিয়ে রাশিয়ার সাথে পুরোদস্তুর সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে এখনো কুন্ঠা রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে। ব্রিটেন এখনো এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান খুব ষ্পষ্ট করছে না।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে আরো প্রমান দেখতে চাইছেন। অন্যিদকে ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেছেন যদি কোন হামলার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তার টার্গেট হবে রাশিয়ার সরকারি রাসায়নিক অস্ত্রের গুদাম।
দুরপাল্লার টমাহক ক্ষেপনাস্ত্রবাহী আমেরিকান একটি যুদ্ধ জাহাজ সিরিয়ার উপকুলের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে ।
আমেরিকার সামরিক নীতি নির্ধারকরা ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের সাথে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ল্যাটিন আমেরিকায় তার এক নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন।
ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির বারবারা প্লেট উশার বলছেন, ইঙ্গিত ষ্পষ্ট হচ্ছে যে শুধু কয়েকটি ক্ষেপনাস্ত্র ছোঁড়ার চেয়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য আমেরিকা প্রস্তুত হচ্ছে।
