কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া অতিথিদের প্রথমেই নিয়ে যেতেন গুলশানের ঢাকা ওয়েস্টিন হোটেলে। সেখানে তার নামে বরাদ্দকৃত সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইটে।
এরপর আগত অতিথিদের সাথে সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে বৈঠক করতেন। সেখান থেকে পছন্দমত তরুণীকে নিয়ে গোপন কক্ষে প্রবেশ করতেন ভিআইপিরা। ওয়েস্টিনের ২২ তলায় চার বেডরুমের ওই স্যুইটের প্রতিরাতের ভাড়া সাধারণভাবে দুই হাজার ডলারের মতো। পাপিয়ার ‘পাপের রাজ্যে’ বিচরণ ছিল প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থার অনেক শীর্ষ ব্যক্তিরই।
এছাড়াও, পাপিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিল যুব মহিলা লীগের শীর্ষস্থানীয় তিন নেত্রীরও। ওয়েস্টিন হোটেলের কর্মকর্তারাও জানত তার অপকর্ম সম্পর্কে।
তবে এসব তথ্য যাচাই করতে একটি সংস্থা ওয়েস্টিন হোটেল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। হোটেলের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন। এদিকে পাপিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পৃথক তিনটি মামলা বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে ন্যস্ত হয়েছে।
জানা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হওয়ার চেষ্টায় বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করেন পাপিয়া। কিন্তু যারা এ দায়িত্ব নিয়েছিলেন তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাপিয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করতে সাহস পাননি। এ কারণে ওই বিনিয়োগটি বিফলে যায়। শুধু তাই নয়, জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে খরচ করেছিলেন এক কোটি টাকা। এছাড়া উপঢৌকন হিসেবে কতিপয় প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়েছিলেন বিশেষ উপহার।
তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে বুধবার বিকালে বিমানবন্দর থানার ওসি বিএম ফরমান আলী বলেন, রাজধানীর বিমানবন্দর থানার এক মামলার রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে তদন্ত কর্মকর্তাদের নানা তথ্য দিচ্ছেন পাপিয়া। কাদের আশ্রয়-প্রশয়ে তিনি এ পর্যায়ে এসেছেন- সব বিষয়েই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

