রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে পুড়ে মা ও ৩ সন্তানের মৃত্যু



আগুনে পুড়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির একটি অস্থায়ী তাঁবুতে মা, তিন শিশুসন্তানসহ চার রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। মোমবাতি থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়ার ইউএনও মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী।
গতকাল শুক্রবার ভোরে উপজেলার ঘুমধুম এলাকায় একটি অস্থায়ী তাঁবুতে (ট্রানজিট কেন্দ্র নামে পরিচিত) এই অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটে। যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, তা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং টেলিভিন উপসম্প্রচার কেন্দ্রের পাশেই।
নিহত রোহিঙ্গারা হলো নুর হাবা (৩০), তার সন্তান আমিন শরীফ (৮), দিলশান বিবি (১২) ও আরজুমান বিবি (২)। দুর্ঘটনার সময় চারজনই ঘুমিয়ে ছিল। আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত মা ও তিন সন্তানকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের সেবা কার্যক্রমে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী একটি সংস্থার অস্থায়ী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রাথমিকভাবে আশ্রয়ের জন্য নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে একটি ট্রানজিট ক্যাম্প খোলা আছে। কিছুদিন আগে রোহিঙ্গা আবদুর রহিম ট্রানজিট কেন্দ্রের একটি তাঁবুতে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় আবদুর রহিম বাইরে ছিলেন।

মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর থেকে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসছে। টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ৪ হাজার ৩০০ একর পাহাড় ও পাহাড়ি এলায় তাদের বসতি গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার। আর নতুন-পুরোনো মিলিয়ে এখন শুধু কক্সবাজারেই আছে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা।
আরও পড়ুন;
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সাধ্যমত চেষ্টা করবে তুরস্ক
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার প্রস্তাব জাপানের  
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহযোগিতা করবে চীন
রোহিঙ্গা সংকট: সু চির সঙ্গে ট্রুডোর বৈঠক  
রোহিঙ্গা সংকট: বছরে লাগবে সাত হাজার কোটি টাকা
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চারটি শর্ত দিয়েছে মিয়ানমার
সোমবার থেকে ফের রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা শুরু
রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারে ফিরতে চায় ৭৮% রোহিঙ্গা     
রোহিঙ্গা সংকট: হত্যা করা হয়েছে ৬,৭০০ রোহিঙ্গাকে