রোহিঙ্গা সংকট: নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক চায় ৭ দেশ




মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর হামলা সম্পর্কে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ সাতটি সদস্য দেশ।
মিয়ানমার ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, মিসর, সেনেগাল ও কাজাখস্তান। এ সাতটি দেশ আগামী সপ্তাহে প্রস্তাবিত বৈঠক আহ্বানের জন্য পরিষদের সভাপতি ইথিওপিয়ার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে শুক্রবার ইথিওপিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। বৈঠকের সময় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে ইথিওপিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর হামলা ও সহিংসতার জেরে এক মাসেরও কম সময়ে ৪ লাখ ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল মিয়ানমার বাহিনীর হামলাকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে অভিহিত করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বিষয়টিকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘জোরালো ও ত্বরিত’ পদক্ষেপ কামনা করেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বুধবার এ কথা জানান।
রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা পরিষদ এ পর্যন্ত দুবার বৈঠক করেছে। গত সপ্তাহে পরিষদ এক অনানুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মিয়ানমার পরিস্থিতির নিন্দা জানায়। ওই বিবৃতিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। মিয়ানমারে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নিরাপত্তা পরিষদ আনুষ্ঠানিক বিবৃতির উদ্যোগ নিতে পারে বলে কূটনীতিক সূত্রগুলোর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির চেয়ে কার্যকর ও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব না হওয়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পর নিরাপত্তা পরিষদ একটি ইস্যুতে প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ নিতে পারে। কিন্তু মিয়ানমারের দুই মিত্র দেশ চীন ও রাশিয়ার কারণে এমন প্রস্তাব পাস সম্ভব নাও হতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদে সম্ভাব্য কোনো প্রস্তাব ঠেকাতে ভেটো ক্ষমতাধারী এ দুই দেশের সঙ্গে মিয়ানমার যোগাযোগ রাখছে বলে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির মুখপাত্র গত সপ্তাহে জানান।
১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাসে নয়টি সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন। ভেটো ক্ষমতাধারী পাঁচ দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষের আপত্তি থাকলে প্রস্তাব থমকে যেতে পারে।
বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক (বিএইচআরএন) চীন ও রাশিয়ার প্রতি মিয়ানমারকে সমর্থন না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনের পরিচালক ক্য উইন বলেছেন, অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে দুই দেশ মিয়ানমারের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রাখে। তাদের উচিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি পরিচালিত জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধে সক্রিয় হওয়া।