প্রথমবারের মত রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী । এ ঘটনাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী তাদের সেনা সদস্যদের কর্মকান্ডের দায় নিচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার মিয়ানমার সফররত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সু চি এ কথা বলেন।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জিজ্ঞাসা করা হলে সু চি বলেন, ‘সেনাবাহিনী বিষয়টি তদন্ত করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এটা আমাদের দেশে একটি নতুন পদক্ষেপ। আমি বিষয়টিকে এভাবেই দেখি কারণ, দেশে আইনের শাসনের জন্য কাজের দায় নেওয়া প্রয়োজন। দায় নেওয়ার ক্ষেত্রে এটা প্রথম পদক্ষেপ এবং ইতিবাচক।’
তবে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপান। গতকাল নেপিডোয় মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চির সঙ্গে বৈঠকের সময় এই উদ্বেগের কথা জানান জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো। মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোয় গতকাল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান সরকার।
সু চির সঙ্গে বৈঠকের সময় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর পুনর্বাসনেরও আহ্বান জানান জাপানের মন্ত্রী। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন তারো কোনো।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসা মিয়ানমার সেনাবাহিনী গত বুধবার কথিত সন্ত্রাস দমন অভিযানে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরার পর হত্যার কথা স্বীকার করে। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে “স্থানীয় বৌদ্ধ ও সেনা সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়” জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
