১৯৯৪ সালের এপ্রিলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যান্টিগা টেস্টে ব্রায়ান লারার ব্যক্তিগত ৩৭৫ রানের রেকর্ড অক্ষত ছিল ১০ বছর। ২০০৩ সালের অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পার্থে ৩৮০ রান করে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথু হেইডেন বনে যান টেস্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক।
তা যেন ঠিক পছন্দ হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তী ব্রায়ান লারার। নিজের রেকর্ড ভেঙে ফেলা মেনে নিতে পারেননি হয়ত! তাই মাত্র ছয় মাস নিজের উপরে থাকতে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেনকে।
যেই অ্যান্টিগাতে গড়েছিলেন রেকর্ড, সেই মাঠে প্রতিপক্ষ সেই ইংল্যান্ডকে বেঁছে নিলেন নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। ২০০৪ সালের এপ্রিলে আজ থেকে ঠিক ১৬ বছর আগে নিজের ৩৭৫ ও হেইডেনের ৩৮০ রানকে ছাপিয়ে প্রথম ও একমাত্র ৪০০ রানের রেকর্ড গড়েন লারা। অর্থাৎ আজ (১২ এপ্রিল) লারার ৪০০ রানের চূড়ায় বসার ১৬ বছর পূর্তি।
অ্যান্টিগা টেস্ট শুরু হয় ১০ এপ্রিল, টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লারা। ইনিংসের ১৪তম ওভারেই ড্যারেন গঙ্গা আউট হয়ে গেলে, প্রথম ঘণ্টায়ই ব্যাটিংয়ে নামতে হয় তাকে।
সেই যে নামলেন আর আউটই করতে পারেনি ইংল্যান্ডের বোলাররা। ইনিংসের ১৩.৪ ওভার থেকে অপরাজিত থেকেছেন একদম ২০২ ওভার পর্যন্ত টিকে রইলেন। ব্যাট হাতে ছড়ি ঘুরিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জানান দিলেন।
প্রথম দিন শেষে লারার নামের পাশে ঝকঝকে ৮৬ রান। রামনরেশ সারওয়ানের সঙ্গে গড়েন ২৩২ রানের জুটি। সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও ৯০ রানে আউট হয়ে যান সারওয়ান। ততক্ষণে দেড়শ পেরিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির পথে লারা।
বেশি কিছু করতে পারেননি রিকার্ডো পাওয়েল (২৩) ও রায়ান হিন্ডস (৩৬)। দ্বিতীয় দিন শেষ হওয়ার আগেই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দুইটি ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানোর কৃতিত্ব অর্জন করেন লারা, দিন শেষে অপরাজিত থাকেন ৩১৩ রানে।
ইনিংসের ১৯০তম ওভারে গ্যারেথ ব্যাটিকে পরপর দুই বলে ছয় ও চার মেরে প্রথম হেইডেনের ৩৮০ এবং পরে ৩৮৪ রানে পৌঁছে যান লারা। উইকেটে চুমু খেয়ে তৃপ্তি প্রকাশ করেন রেকর্ড ভাঙার।

টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস তখন আবার লারার নামের পাশে। তবু কাজ বাকি ছিল। ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সুযোগ আসে ৪০০ রান করার। তা করতে গিয়েই খানিক খোলসবন্দী হয়ে পড়েন লারা।
তৃতীয় দিনের চা পানের বিরতির খানিক আগে সেই গ্যারেথ ব্যাটিকেই সুইপ শটে এক রান নিয়ে স্বপ্নের ৪০০ রানের চূড়ায় উঠে যান লারা। নিজের চিরচেনা লাফ দিয়ে উদযাপন করেন সেই অর্জন।
লারার প্রথম রেকর্ডটি টিকে ছিল প্রায় দশ বছর, নিজেকে ভেঙে গড়া তার নতুন রেকর্ড ১৬ বছরেও কেউ ভাঙতে পারেননি।


