কথায় আছে, ফরচুন ফেভারস দ্যা ব্রেভ। ভাগ্য দেবী যখন সহায় থাকে, তখন কার বা সাধ্য থেমে যায়! উড়ে যাওয়া, ছুটে যাওয়া। ভাগ্যের হওয়ায় চড়ে যাওয়া।
লিটন কুমার দাসের বেলায়ও ঘটেছে তাই। লিটন থামেননি, ছুটে চলেছেন দূর বহুদূর। রূপকথার গল্পের মতন ২২ গজের সীমানায় এঁকেছেন একের পর এক ছবির উপাখ্যান।
বল উড়িয়েছেন, সীমানা ছাড়া করেছেন। সীমানা পার না হওয়া বলগুলো সহজ করেছেন প্রতিপক্ষের খেলোয়ারগুলো। ক্যাচ মিসের মহড়া দেখে হয়ত মনেই হবে, ভাগ্য বিধাতা আজ দুহাত জুড়ে লিটনের জন্য উপহার জমা রেখেছেন। যা পুরোটাই উজাড় করে দিয়েছেন আজকে।
ক্যাচ হয়েছে, বেচেঁছেন নো বলে। ক্যাচ মিস হয়েছে বারংবার, ভয়ংকর হয়েছেন একটু একটু।
ব্যাটের ছোঁয়াই বল যেভাবে উড়ে বেড়িয়েছে, তাতে রেকর্ডের পালে হাওয়া লেগেছে।
সিনিয়র পার্টনারকে সাথে খেলেছেন, গল্প লিখেছেন পুরো মাঠ জুড়ে। সিলেটের স্টেডিয়ামে লিটনের ব্যাট যেন একটি রংতুলি, সেই তুলির প্রতিটি আঁচড়ে হয়ে উঠেছিলেন একজন পিকাসো। যার দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ নয়নে আপনা আপনি মন বলে উঠে, বাহ! এইতো বেশ।
২১ বছর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করা ১৭০ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙেছেন তামিমকে সাথে নিয়ে। ভেঙেছেন কার্ডিফে বিস্ময়ের গল্প লেখা সাকিব-মাহমুদউল্লাহর ২২৪ রানের জুটি।
বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র দেড়শ পার করা তামিমকেও পার করেছেন বিজয়ের বেশে। তামিমের ১৫৮ ছাপিয়ে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছিলেন দু’শয়ের দিকেও।
তবে সব কিছুর শেষ থাকে একসময়। লিটন থেমেছেন ১৭৬ রানে, দু’শ থেকে ২৪ রান দূরে।
আচ্ছা, লিটনের কি আক্ষেপ আছে? হয়ত আছে, হয়ত বা না! ফিরে যাওয়ার পথে লিটন যদি একবার পিছন ঘুরতেন, দেখতে পেতেন যেই তামিমের রেকর্ড ভেঙেছেন সেই তামিম তালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন। যতক্ষন না ফেরার পথের শেষ কদম শেষ হয়ে যায়! তখন হয়ত আক্ষেপও আক্ষেপ করার সাহস করবে না।

