হারিয়ে ফেলেছি আমি সেই শৈশব
পাবো না ফিরে কখনো জানি,
রয়ে গেছে আজও স্মৃতিকাতর হয়ে
মনের গহীন কুঠুরে।
আনন্দে উল্লাসে আর খুনসুটিতে ভরা,
বাবা মায়ের স্নেহ আদর আর
দাদা-দাদীর ভালোবাসা,
ছিলনা কোন চিন্তা, উচ্চ কোন আকাঙ্ক্ষা,
হৃদয় জুড়ে যেন ছিল, দুরন্তপনা আর দুষ্টুমিতে ভরা।
সকাল হতে না হতে গেছি মক্তবে দলবেঁধে,
হেঁটেছি কত না আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে,
চড়েছি কত না গাছে গাছে,
শুনেছি হরেক রকম পাখির ডাক,
ফুলে ফুলে দেখেছি প্রজাপতি আর মৌমাছির নাচ।
কদমতলাতে গেছি ফুল পাড়িতে,
দিঘীর জলে গেছি শাপলা আনিতে,
পুকুর ধারে বসে ছিপ দিয়ে মাছ ধরা,
ডুবসাঁতার দিয়ে এ পাড় থেকে ওপাড়ে যাওয়া।
রয়ে গেছে আজও স্মৃতিকাতর হয়ে
মনের গহীন কুঠুরে।
ভরদুপুরে গুলতি হাতে এ বন থেকে ও বনে,
কত না রঙিন ঘুড়ি উড়িয়েছি নীল আকাশে,
টায়ার, বেয়ারিং চালিয়েছি কত না এ পথ থেকে ও পথে।
রয়ে গেছে আজও স্মৃতিকাতর হয়ে
মনের গহীন কুঠুরে।
লাটিম, মার্বেল খেলে কাটিয়েছি বেলা,
পড়ন্ত বিকালে ছেয়ে যেত খেলার মেলা
খেলেছি কানামাছি, গোল্লাছুট, বৌ-চি,
ফুটবল,ক্রিকেট, ডাংগুলি কত না নানান খেলা।
রয়ে গেছে আজও স্মৃতিকাতর হয়ে
মনের গহীন কুঠুরে।
বাদল ও দিনে যখন ঝরেছে বৃষ্টি অঝোর ধারায়,
কানে বেজেছে ঝুম-ঝুম শো-শো আওয়াজ,
হৃদয় যেন হয়েছে মাতাল শীতল আবহাওয়ায়,
শুনেছি কত না রূপকথার গল্প বৃষ্টি বাদলায়।
মেঘ-বৃষ্টি কালো আঁধার সরে গিয়ে
যখন সোনালী রোদ্দুর হাসে ওই গগনে,
চারিদিক যেন সেজেছিল সবুজ জীবন্তের সাজে,
নদী নালা খাল বিল যেত যে সব ভরে,
চালিয়েছি কত না ভেলা সঙ্গী সাথীদের সাথে,
দেখেছি কত না হাঁস আর হলুদ রঙের ব্যাঙের মেলা।
কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি সেই সোনালী দিনগুলো,
রয়ে গেছে আজও স্মৃতিকাতর হয়ে
মনের গহীন কুঠুরে।
পেপার’স লাইফ/কবিতা/শহিদুর রহমান

