শহীদ হাদি হত্যা মামলা: পশ্চিমবঙ্গে রিমান্ড শেষে কারাগারে ফয়সাল, দায় অস্বীকার


শহীদ হাদি হত্যা মামলা: পশ্চিমবঙ্গে রিমান্ড শেষে কারাগারে ফয়সাল, দায় অস্বীকার

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলা  প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। রিমান্ড চলাকালীন ফয়সাল নিজেকে নির্দোষ দাবি করায় মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে, যা দুই দেশের সীমান্ত অপরাধ দমনে তৈরি করেছে নতুন সমীকরণ।


দীর্ঘ ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হয়। গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বনগাঁ এলাকা থেকে তাঁদের আটক করেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের হলেও বাংলাদেশের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাঁদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ড চলাকালীন এসটিএফ-এর গোয়েন্দারা ফয়সাল করিম মাসুদের কাছ থেকে সীমান্ত পারাপার এবং আত্মগোপনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তবে আদালতে তোলার আগে বা জিজ্ঞাসাবাদের কোনো এক পর্যায়ে ফয়সাল দাবি করেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সাথে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর এই দাবিকে কেন্দ্র করে আইনি মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফয়সাল ও আলমগীর পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তাঁরা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। বনগাঁর মতো একটি স্পর্শকাতর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা পুলিশের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ফয়সালের দায় অস্বীকারের বিষয়টি নিছক কৌশল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বর্তমানে অনুপ্রবেশের মামলা চললেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁদের প্রত্যর্পণ বা পুশ-ব্যাক করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী বিনিময় চুক্তির আওতায় এই প্রক্রিয়াটি এগোতে পারে। আপাতত তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

ঘটনার মূল তথ্যসমূহ:

  • আসামি: ফয়সাল করিম মাসুদ (প্রধান অভিযুক্ত) ও আলমগীর হোসেন (সহযোগী)।

  • গ্রেপ্তারের তারিখ: ৮ মার্চ, ২০২৬।

  • স্থান: বনগাঁ সীমান্ত এলাকা, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ।

  • অভিযোগ: অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বাংলাদেশে সংঘটিত হাদি হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা।

  • আইনি স্থিতি: ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে (কারাগার)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফয়সাল করিম মাসুদের মতো দুর্ধর্ষ আসামির ধরা পড়া দুই দেশের অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে ভারতে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হতে পারে। এদিকে বাংলাদেশে নিহত ওসমান হাদির পরিবার ও বিচারপ্রার্থীরা এই গ্রেপ্তারের খবরে দ্রুত বিচারের আশা দেখছেন।