রাজধানীর ওয়ারীর শিশু সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আসামি হারুন আর রশিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।
গত ৫ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের তারিখ ধার্য করেছিলেন আদালত। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামি হারুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল বারী জানান, আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিল। তাই তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে বলেই তারা আশা করেছিলেন।
এর আগে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী আব্দুল হান্নান আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের ৬৬ দিনের মাথায় এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
এদিকে রায়ে মামলার একমাত্র আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সায়মার মা সানজিদা আক্তার ও বাবা আব্দুস সালাম। তারা এই রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান সরকারের কাছে।
এ প্রসঙ্গে শিশু সায়মার মা সানজিদা আক্তার বলেন, আমার মেয়েকে হত্যায় হারুনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়ায় আমি সন্তুষ্ট। সরকার যেন এ রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করে।
সায়মার বাবা আব্দুস সালাম বলেন, হারুনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়ায় আমি খুশি। এই রায় যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয় এই দাবি করি সরকারের কাছে।
গত বছরের ৫ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ধর্ষক হারুন আর রশিদকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ওয়ারী জোনাল টিম মো. আরজুন।
মামলার আসামি হারুন আর রশিদকে গত ৭ জুলাই তার বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার ডাবরডাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরের দিন হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারীর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন হারুন।
গত ৩০ অক্টোবর আসামি মো. হারুন অর রশিদকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ওয়ারী জোনাল টিমের মো. আরজুন।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, মামলার প্রথামিক তদন্তে সামিয়াকে আসামি হারুন অর রশিদ ধর্ষণ ও হত্যা করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে, এমন তথ্য তদন্তে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সায়মা নিখোজ ছিল। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নবনির্মিত একটি ভবনের নবম তলার খালি ফ্ল্যাটের ভেতর সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
পরে খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরের দিন সায়মার বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করেন।

