শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: ন্যায়বিচারের আশায় নাহিদ ইসলাম



২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। এই মামলার সাক্ষী জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পাব।” মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্র-জনতার উপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, তার বিচার ছিল আমাদের প্রথম দাবি। আমরা আশা করি, এই মামলায় দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমি সম্ভবত এই মামলার শেষ সাক্ষী। আমার সাক্ষ্য নেওয়ার পর মামলাটি রায়ের দিকে এগোবে।” তিনি আরও জানান, শুধু এই মামলা নয়, সারা দেশে গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের আরও অনেক মামলা রয়েছে, যেগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের পরেও যেন এই বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আমরা একটি রোডম্যাপের দাবি জানিয়েছি। সকল রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে এই প্রতিশ্রুতি থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানান, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ না হওয়ায় নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি মঙ্গলবার গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “আশা করি, আগামীকাল নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করবে।” বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মাহমুদুর রহমান ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার একপর্যায়ে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করে। পরবর্তীতে তিনি ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন এবং ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করেন।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রয়েছে। একটি মামলা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে গুম ও খুনের ঘটনায়, এবং অপরটি রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে। গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার এবং সরকারের অনুগত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।