ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের এই মেয়াদের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এ ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন,বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি সবক’টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একযোগে সরাসরি সম্প্রচার করে।
জাতির উদ্দ্যেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে। আর তা হবে সংবিধান মেনে, অর্থাৎ তার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে। তবে ২০১৩ সালের মত এবারও নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দলকে সেই নির্বাচনে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভোট বর্জন ও সহিংসতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ‘কোনো কোনো মহলের’ অরাজকতা সৃষ্টির সম্ভাব্য ‘অপচেষ্টার’ বিষয়ে জনগণকে তিনি সতর্ক করেছেন।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোট বর্জন করা বিএনপি এখনও সেই দাবিতে অনড়। আর বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যে অবস্থান বদলাননি, তার ভাষণে সেই বার্তা স্পষ্ট।
তার এই ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে দেশকে আরেক দফা সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিলেন শেখ হাসিনা।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা নয় বছর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভাষণের শুরুতেই জাতির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আমার উপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার। কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি সে বিচার আপনারাই করবেন।”
আর আগামী নির্বাচনের দিকে ইংগিত করে জাতির উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই দেখতে চান।… একবার ভাবুন তো, মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। তিনি চান না, এ জাতি আর দরিদ্র হিসেবে পরিচিত হোক। তিনি চান, বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বেঁচে থাক।
“এসব যদি আপনার চাওয়া হয়, তাহলে আমরা সব সময়ই আপনার পাশে আছি।”
টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করতে এই ভাষণে সরাসরি ভোট চাননি শেখ হাসিনা। তবে বরাবরের মতই তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পেরেছে বলেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
“নয় বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে।”
বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে এবং আগামী প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধশালী দেশ পাবে- এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, এ বিষয়ে সচেতন হয়ে দেশবাসীকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানাচ্ছি।”
আরও পড়ুন; বাংলাদেশ নামটাও বঙ্গবন্ধুর দেওয়া: প্রধানমন্ত্রী
নেত্রকোনায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সংসদে বিল
যৌথ ভিডিও কনফারেন্সে ‘বন্ধন’ উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা ও মোদী
বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় ৩০তম শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মামলার রায় আজ
