দেশে করোনা সংক্রমণের কথা চিন্তা করে মানুষ সচেতন থাকায় মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এ কথা জানিয়েছেন মুফতি মাহফুজুল হক। এসময় তিনি জানান, মানুষজন সচেতনের কারণে কম সংখ্যক সমাগম হয়েছে তা না হলে জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের জায়গা দেয়া যেত না ঠিকমতো।
মাহফুজুল হক বলেন, ‘মাওলানা আনসারী সাহেব একজন জনপ্রিয় আলেম, ইসলামী বক্তা। দেশব্যাপী তার এত জনপ্রিয়তা যে এই পরিস্থিতিতেও এত মানুষ হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসেছিলেন তার জানাজায়।
এসময় লকডাউন অমান্য করে এত জনসমাগম ঘটানোর বিষয়ে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, যারা এসছিলেন তারা খুব বেশি দুরের নয় কাছেরই। দূর-দূরান্তের মানুষ খুবই কম এসেছে।
তিনি আরও বলেন, মাওলানা আনসারী আমাদের দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ছিলেন, দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, সে কারণে আমরা একটা দায়িত্ববোধ আর দায়বোধ থেকেই কিছু মানুষ গিয়েছি।
অনেকেই চেয়েছিলেন জানাজায় শরিক হতে। কিন্তু আমরা তাদের বলেছি যার-যার অবস্থান থেকে দোয়া করাটাই কর্তব্য। আর সবার পক্ষ থেকে আমরা দুই চারজন জানাজা পড়ে আমাদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।
এর আগে শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় অফিস ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান হেলাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, জানাজায় লাখ-লাখ মানুষ হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মাওলানা মাহফুজুল হক জানান আশেপাশের মানুষগুলোকে তো আর বাধা দেয়া সম্ভব নয়। তবে আমার মনে হয়েছে, এ কারণেই জমায়েত হয়েছে বেশি। একদম কাছাকাছি সময়ে কাছাকাছি থাকা মানুষেরাই শরিক হয়েছেন জানাজায়।’
করোনাভাইরাসের কারণে যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘আজকেও তো পত্রিকায় এসেছে বাজারে মানুষজন যাচ্ছে। কাওরান বাজারের যে ছবি দেখেছি।
এদিকে শনিবার বিকাল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, ‘জানাজায় শরিক হতে তো কোনও আহ্বান জানানো হয়নি। আর মাইকে অনেকবার সামাজিক দূরত্ব, একজন-আরেকজন থেকে দূরে থেকে জানাজা পড়ার কথা বারবার ঘোষণা করা হলেও কেউ এটা মানেনি।’
তিনি নিজে এই জানাজায় ছিলেন জানিয়ে এই আলেম বলেন, ‘মাইকে বললেও কী হবে, জায়গা তো কম। মেইন রোডে অবস্থান নিয়েছে অনেকে। মাওলানা আনসারী অনেক জনপ্রিয়, বিশেষ করে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সিলেট অঞ্চলে তিনি জনপ্রিয় বক্তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়েছে। কিন্তু মানুষ আসলে বাধা দেওয়া যাবে কীভাবে।’
জেলা প্রশাসন অনেক চাপে আছে, মন্তব্য করে এই আলেম বলেন, ‘প্রশাসন চাপে আছে। এখন তো যার-যার এলাকায় চলে গেছে মানুষ।’
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই লকডাউন ভেঙেই আজ শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে।
শনিবার সকালে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে এখন করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ল।
সকাল থেকে পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়তলা মাদ্রাসায় আসতে থাকে লোকজন।
পরে সকাল ১০টার দিকে জানাজা শুরু হয়। মাদ্রাসা মাঠ ছাড়িয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে যায় মানুষ।

