ঢাকার খিলগাঁও এলাকার গোড়ানের একটি বাসা থেকে দুই শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মাকে দগ্ধ অবস্থায় মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে খিলগাঁও গোড়ানের ৩৯৭ নম্বর বাড়ি থেকে আলভি (১১) ও জান্নাত (৬) নামের শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরি ও বটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ওই বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন পপি। তার স্বামী মোজাম্মেল হক মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে থাকেন, সেখানে তার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দোকান রয়েছে।
পপির বাবা আবু তালেব ঢাকা মেডিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, তার মেয়ে ও জামাতার মধ্যে কলহ ছিল।
তিনি বলেন, তার মেয়ে বিয়ের পর নয় বছর তার সঙ্গে থাকলেও কিছু দিন আগে আলাদা বাসা নিয়েছিলেন। জামাতা মোজাম্মেল প্রতি সপ্তাহে ঢাকা আসতেন, তবে গত সপ্তাহে আসেননি।
তালেবের ধারণা, স্বামীর সঙ্গে কলহ থেকে পপি গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
পপির মা হেলেনা জানান, স্বামীর নির্যাতনের কারণে পপি তার দুই মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।একটি গণমাধ্যমকে হেলেনা জানিয়েছেন, তাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। ১৩ বছর আগে পপির বিয়ে হয়। তার স্বামী মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাজারে ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাতে মোজাম্মেল শ্বশুর আবু তালেবকে ফোন দিয়ে দোকানে মাল তোলার জন্য ১০ লাখ টাকা চায়। টাকা না দিলে দুই মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলে, ‘আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে যাব, আপনি আপনার মেয়েকে নিয়ে যাবেন।’
‘এরপর সকালে পপির বাবা পপিকে ফোন দিয়ে সাড়া না পেয়ে বাসায় গেলে পপি নিজেই দরজা খুলে দেন। এ সময় পপির শরীরের নিচের অংশ দগ্ধ অবস্থায় লেপ মোড়ানো ছিল। আর পাশের রুমে দুই মেয়ের গলা কাটা ও কিছুটা পুড়ে যাওয়া লাশ পড়ে ছিল।’
তিনি বলেন, যেহেতু স্বামী দুই মেয়েকে নিয়ে যেতে চেয়েছে, তাই সে তার মেয়েদের হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনার জন্য তার স্বামীই দায়ী।
জানা গেছে, পপির পা ও হাত মিলিয়ে দেহের ১৮ শতাংশের মতো পুড়েছে।

