সমাজে সবার সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী



বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং তাঁদের মর্যাদা বিকাশে তাৎক্ষণিক একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মুখোমুখি বসে তাঁদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও নানা দাবির কথা শোনেন তিনি। সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমাজে প্রত্যেকের মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার রয়েছে এবং যাঁদের বিশেষ সহমর্মিতা ও মনোযোগ প্রয়োজন, বর্তমান সরকার সব সময় তাঁদের পাশেই থাকবে।

মতবিনিময় সভায় দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে আসা প্রতিবন্ধী প্রতিনিধিরা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম, পরিবহন সংকট, সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতার বাস্তব চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কার্যকর ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা, গণপরিবহনে তাঁদের যাতায়াত সুগম করা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবনে হুইলচেয়ার ও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার জন্য অগ্রাধিকারমূলক কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর যে জোর দাবি তোলা হয়, তা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের বয়সের সীমা অন্তত এক বা দুই বছর বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দ্রুততম সময়ে এ সংক্রান্ত ফাইল বা নির্দেশনা জারি করা হবে। একই সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তাঁদের উপযোগী কাজের সৃষ্টি করা যায় কি না, সে বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নীতিগত আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।

জাতীয় রাজনীতি ও আইন প্রনয়ন প্রক্রিয়ায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়াতে ঐতিহাসিক প্রস্তাবের ইতিবাচক মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিনিধিরা সংসদে তাঁদের থেকে সংরক্ষিত আসনে পুরুষ ও নারী সদস্য রাখার সুপারিশ জানালে, প্রধানমন্ত্রী দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এটি বাস্তবায়নের সদিচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার আগেও তিনি এই জনগোষ্ঠীর সাথে মতবিনিময় করেছিলেন এবং তাঁদের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছিলেন।