দেশের সারস্বত সমাজের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঘোষিত হয়েছে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫’। কবিতা, কথাসাহিত্য, গবেষণা ও বিজ্ঞানসহ মোট আটটি ভিন্ন শাখায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার ৯ জন বিশিষ্ট গুণীজনকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমের স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজয়ীদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
মেধার জয়গান: যারা পেলেন এবারের স্বীকৃতি
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার মানেই কেবল একটি সম্মাননা নয়, বরং এটি একজন লেখকের জীবনব্যাপী সাধনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এবারের তালিকায় যারা স্থান পেয়েছেন, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন— কবিতায় দাপুটে কবি মোহন রায়হান, কথাসাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য নাসিমা আনিস, এবং প্রবন্ধ ও গদ্য শাখায় মননশীল প্রাবন্ধিক সৈয়দ আজিজুল হক। শিশুসাহিত্যের চিরচেনা নাম হাসান হাফিজ পেয়েছেন শিশুসাহিত্যে এবারের পুরস্কার। অনুবাদের মতো কঠিন শাখায় মুন্সিয়ানা দেখিয়ে মনোনীত হয়েছেন আলী আহমদ। গবেষণায় এবার যৌথভাবে নাম এসেছে মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান-এর। এছাড়া বিজ্ঞান সাহিত্যে জনপ্রিয় লেখক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে বিশিষ্ট গবেষক ও কূটনীতিক মঈদুল হাসান এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
যেভাবে এলো এই চূড়ান্ত ঘোষণা
একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, পুরস্কার প্রাপ্তির এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। ‘প্রস্তাবক কমিটি’র সুপারিশ এবং ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি’র চুলচেরা বিশ্লেষণের পর চূড়ান্ত তালিকাটি একাডেমির নির্বাহী পরিষদ অনুমোদন দেয়। মূলত সৃজনশীলতা, বিষয়বস্তুর গভীরতা এবং বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে সেই রচনার সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়েই বিচারকগণ এই মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।
একনজরে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা:
কবিতা: মোহন রায়হান
কথাসাহিত্য: নাসিমা আনিস
প্রবন্ধ/গদ্য: সৈয়দ আজিজুল হক
শিশুসাহিত্য: হাসান হাফিজ
অনুবাদ: আলী আহমদ
গবেষণা: মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান (যৌথভাবে)
বিজ্ঞান: ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী
মুক্তিযুদ্ধ: মঈদুল হাসান
অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চে সম্মাননা
ঐতিহ্য অনুযায়ী, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেবেন। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে একটি সম্মাননা স্মারক, নির্ধারিত অর্থ এবং মানপত্র প্রদান করা হবে।
বইমেলাকে ঘিরে এখন সাজ সাজ রব। আর তার ঠিক আগমুহূর্তে এই ঘোষণা দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনন্দের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে সাহিত্যপ্রেমীরা বিজয়ীদের অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কেবল অতীতের কাজের মূল্যায়ন নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে মানসম্মত সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার এক বড় অনুঘটক। শিল্প-সাহিত্যের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকলে আমাদের জাতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে। ২০২৫ সালের এই বিজয়ীদের হাত ধরে বাংলা সাহিত্য বিশ্বদরবারে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সুধী মহলের।

