কক্সবাজারের চাঞ্চল্যকর হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এবং ভারতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি জানান, আসামিদের হস্তান্তরের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিল্লিকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার
সোমবার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “অপরাধ করে সীমান্ত পার হয়েও পার পাওয়া যাবে না। আমরা ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করছি। হাদি হত্যার মূল হোতাদের ফিরিয়ে এনে বাংলার মাটিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণা পর্যটন নগরীর মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। স্থানীয় সূত্রমতে, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফিরিয়ে আনার কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
পর্যটনের রাজধানী রক্ষায় জিরো টলারেন্স
হাদি হত্যার বিচার ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের শৃঙ্খলা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের পর্যটন মানেই যেখানে কক্সবাজারের নাম আসে, সেখানে অবৈধ দখলদারিত্ব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কক্সবাজার সৈকতকে কেবল স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি। কিন্তু সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করে যারা অবৈধ দখলদারিত্বে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।” তিনি আরও জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুরো শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
সভায় আলোচিত মূল পয়েন্টগুলো:
বন্দি বিনিময়: হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত হস্তান্তরের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা: কূটনৈতিক চ্যানেলে আসামিদের প্রোফাইল ও অপরাধের নথি পাঠানো হয়েছে।
অবৈধ উচ্ছেদ: সৈকত এলাকায় বালু ও জমি দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মান: কক্সবাজারকে পরিকল্পিত পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের ঘোষণা।
আইনশৃঙ্খলা: রমজান ও আসন্ন পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের এই সফর ও বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, সরকার একই সাথে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং দেশের প্রধান পর্যটন সম্পদ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। তবে ভারতে আটক আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি কতটা দ্রুত শেষ হয়, তার ওপর নির্ভর করছে হাদির পরিবারের ন্যায়বিচার।

