দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৩৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যটির আমদানি সামান্য বেড়েছে। মূলত বাড়তি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এ সময় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৪২৩টি ট্রাকে ৮ হাজার ৩৩৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। পরের দুই মাসে পণ্যটির আমদানিতে তেজিভাব দেখা গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এ স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫টি ট্রাকে মোট ১১ হাজার ২৪৭ টন ও মার্চে ৬৩০টি ট্রাকে ১৩ হাজার ১৬৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সেই হিসাবে, ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১ হাজার ৫৮৮টি ট্রাকে মোট ৩২ হাজার ৭৪৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
২০১৭ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১ হাজার ৫৮০টি ট্রাকে মোট ৩২ হাজার ৬৬২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৬২২টি ট্রাকে ১২ হাজার ৮৭৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। পরের দুই মাসে পণ্যটির আমদানি কমেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৫২৩টি ট্রাকে ১০ হাজার ৮৯৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। মার্চে এর পরিমাণ আরো কমে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৮৯৫ টনে। সে হিসাবে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে অতিরিক্ত ৮৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
গত বছরের শুরুর পর থেকে পেঁয়াজ আমদানি ক্রমান্বয়ে কমলেও চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারি ও মার্চে যথাক্রমে অতিরিক্ত ২ হাজার ৯০৮ টন ও ৪ হাজার ৮২৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর পেছনে বাড়তি অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।
চলতি মাসের শুরু থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিতে মন্দাভাব বজায় রয়েছে। আগে এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩৫-৪০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা দৈনিক ১৫-২০ ট্রাকে নেমে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে সেখানকার পেঁয়াজের বাজারে। গতকাল হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের আড়তগুলো ঘুরে পাইকারি পর্যায়ে (ট্রাকসেল) আমদানি করা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৬-২১ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এক সপ্তাহ আগেও আমদানি করা এসব পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৪-১৮ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে হিলির পাইকারি বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম মানভেদে কেজিতে সর্বোচ্চ ৩ টাকা বেড়েছে।
হিলিতে আমদানি করা পেঁয়াজ খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। অন্যদিকে এদিন স্থানীয় পাইকারি বাজারে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়েছে।
