হীরক রাজার দেশের ‘উৎপল দত্ত’


হীরক রাজার দেশের 'উৎপল দত্ত'

উৎপল দত্ত, পুরো নাম উৎপল রঞ্জন দত্ত। ১৯২৯ সালের ২৯শে মার্চ আজকের এই দিনে বরিশাল এ জন্মগ্রহণ করেন খ্যাতিমান এই বাঙালি অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক।

উৎপল দত্ত প্রথম দিকে বাংলা মঞ্চনাটকে অভিনয় করতেন। তিনি শেক্সপিয়ার আন্তর্জাতিক থিয়েটার কোম্পানির সাথে ভ্রমণ করেছেন বেশ কয়েকবার। তাঁকে গ্রূপ থিয়েটার অঙ্গনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হিসাবে গন্য করা হয়। কৌতুক অভিনেতা হিসাবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। তিনি হিন্দি কৌতুক চলচ্চিত্র গুড্ডি, গোলমাল ও শৌখিনে অভিনয় করেছেন।  তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় হীরক রাজার দেশে, জয় বাবা ফেলুনাথ এবং আগন্তুক সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মননশীল ছবি ছাড়াও অজস্র বাণিজ্যিক বাংলা ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উৎপল দত্ত। রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে তিনি ছিলেন বামপন্থী ও মার্ক্সবাদী।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে;  দিল্লী চলো, ছায়ানট (১৯৫৮), অঙ্গার(১৯৫৯), ফেরারি ফৌজ (১৯৬১), ঘুম নেই(১৯৬১), মে দিবস(১৯৬১), দ্বীপ(১৯৬১), স্পেশাল ট্রেন(১৯৬১), ভি.আই.পি (১৯৬২), মেঘ(১৯৬৩), রাতের অতিথি(১৯৬৩), সমাজতান্ত্রিক চাল(১৯৬৫), হিম্মৎবাই(১৯৬৬), রাইফেল(১৯৬৮), মানুষের অধিকার(১৯৬৮), জালিয়ানওয়ালাবাগ(১৯৬৯), মাও-সে-তুং(১৯৭১), পালা-সন্ন্যাসীর তরবারি(১৯৭২)।

তিনি নাট্যবিষয়ক বহু প্রবন্ধ ও একাধিক গ্রন্থের রচয়িতাও। বাংলায় অনুবাদ করেছেন বেশ কিছু বিদেশি ভাষার নাটক। ‘শেকসপিয়রের সমাজচেতনা’ তাঁর লেখা গুরুত্বপূর্ণ এক গ্রন্থ। তিনি দীর্ঘকাল ধরে এপিক থিয়েটার নামে একটি সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন এবং দেশ-বিদেশের নাট্যবিষয়ক বহু সভা-সেমিনারেও অংশগ্রহণ করেছেন। নাট্যচর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি লাভ করেন দীনবন্ধু পুরস্কার, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। তবে পদ্মভূষণ উপাধি ও সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

১৯৯৩ সালের ১৯শে আগস্ট গুণী এই চলচিত্ত্রকার-লেখক  কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।