১৮ বছরের সর্বনিম্নে চীনের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি




১৮ বছরের সর্বনিম্নে অবস্থান করছে চীনা বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটির স্থায়ী সম্পত্তিতে বিনিয়োগ বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরের পর স্থায়ী সম্পত্তিতে এটিই সর্বনিম্ন বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি। ফলে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি অবশেষে যে গতি হারাতে শুরু করেছে তা স্পষ্ট।
স্থায়ী সম্পত্তিতে বিনিয়োগ, চীনা প্রবৃদ্ধির একটি অন্যতম নিয়ামক। সরকারি প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী সম্পত্তিতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অর্জিত ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধির চেয়েও তা কম। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পেছনে অবকাঠামো বিনিয়োগে মন্দাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। কেননা দুই মাস ধরে অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ কমে গেছে উল্লেখযোগ্যহারে।
এ বিষয়ে লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের জুলিয়ান ইভানস প্রিটচার্ড বলেন, ‘আমার মনে হয়, চীনা অর্থনীতিতে যে ঝুঁকিগুলো রয়েছে, সেগুলো আগামী কয়েক মাসে না হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্পষ্ট হবে। এক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কারের অগ্রগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেমন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে প্রবৃদ্ধিতে কাঠামোগত টানাপড়েন এখনো অনেক বেশি শক্তিশালী। আর এগুলোই হলো চীনা অর্থনীতির জন্য প্রকৃত ঝুঁকি।’
তিনি আরো বলেন, আগামী মাসে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার চলতি বছর আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ অনেকটাই বাড়িয়েছে। কিন্তু বার্ষিক বাজেটের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যয় নির্বাহ করার ক্ষেত্রে লাগাম টানার প্রয়োজন রয়েছে স্থানীয় সরকারগুলোর।
একই সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিতেও শ্লথ অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যা ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশের ঘরে। ফলে এটা সহজেই অনুমেয় যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিনিয়োগ অর্থায়নে সংকটের মধ্যে রয়েছে। যদিও নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে বেসরকারি ব্যবসায় আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, কিন্তু বিদ্যুত্ এবং সামরিক খাতগুলোর মতো বেশি কিছু শিল্পে এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। চাইনিজ একাডেমি গভর্ন্যান্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জমির পাশাপাশি শ্রম ব্যয় ব্যয়বৃদ্ধি এবং অর্থায়ন সমস্যা বেসরকারি বিনিয়োগের অন্যতম প্রতিবন্ধক। তার ওপর নীতিমালা প্রয়োগেও রয়েছে গড়িমসি। ২০১৭ সালের প্রথম আট মাসে চীনে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ সময় এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল ৫৭ হাজার ৪৯৪ কোটি ইউয়ান। তবে আগস্টে এককভাবে এফডিআই বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ।
এদিকে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের মোট দেশীয় উত্পাদন বা জিডিপি বেড়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। সরকার প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি সম্প্রসারণের যে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, তা উপরেই রয়েছে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফলে। ফলে অর্থনীতি নিয়ে অনেক বেশি আশাবাদী অবস্থানে রয়েছেন চীনের উদ্যোক্তারা। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস সূচক ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ সালের প্রথম প্রান্তিকের পর এটিই সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৬ দশমিক ৯ শতাংশই মনে করে, সামষ্টিক অর্থনীতি ‘স্বাভাবিক’ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ‘তুলনামূলক শীতল’ রয়েছে, এমন মনোভাব পোষণকারী প্রতিষ্ঠান ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ।