৪ ঘণ্টা ঘুরেও ভর্তি নেয়নি কোন হাসপাতাল, স্ত্রীর সামনেই স্বামীর করুণ মৃত্যু


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস যে কতটা ভয়ঙ্কর তা যারা আক্রান্ত হচ্ছে ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। শরীরে জ্বর আর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজধানী ঢাকার এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে অসুস্থ স্বামী নুর আল আহাদকে নিয়ে পাগলের মত ঘুরেছেন স্ত্রী রিনা ইসলাম।

কিন্তু করোনা উপসর্গ দেখে সব হাসপাতালই ভর্তি না নিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। এভাবে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে চোখের সামনেই বিনা চিকিৎসায় স্বামীকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন রিনা ইসলাম।

কুষ্টিয়ার খোকসার একতারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের শহীদুল ইসলাম বিশ্বাস ও নুর নাহার দম্পতির একমাত্র সন্তান নুর আল আহাদ (৩২)। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ আহাদের বাবা-মা। আর প্রিয়তম স্বামীকে হারিয়ে শোকে পাগলপ্রায় স্ত্রী রিনা ইসলাম।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা থেকে আহাদের মরদেহ কুষ্টিয়ার খোকসার একতারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

শেষ পর্যন্ত তড়িঘড়ি করে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ছাড়াই দুজন পুলিশ সদস্য এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতিতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জানাজা শেষে বহরামপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় আহাদকে।

ঢাকায় থেকেই মাস্টার্স পাস করেছেন আহাদ। মাস দুয়েক আগে আহাদ ঢাকার মতিঝিলে একটি অ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি নেন।

বাবা-মা গ্রামের বাড়ি খোকসার এতারপুর দক্ষিণপাড়ায় থাকলেও স্ত্রী এবং তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বসবাস করতেন আহাদ। গত শনিবার (৩০ মে) হঠাৎ করে তার শরীরে জ্বর আসে। কদিন পর থেকে কাশি আর সামান্য শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আহাদ নিজেই মুঠোফোনে ঢাকা মেডিকেলের একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন।

পলাশ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করেই আহাদের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাত ১০টার দিকে প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, এই রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। কিন্তু বর্তমানে এখানকার আইসিইউ খালি নেই। তাকে আইসিইউ সাপোর্ট রয়েছে এমন কোনো হাসপাতালে দ্রুত ভর্তি করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

এরপর অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় আহাদকে। কিন্তু উপসর্গ জেনে ঢাকার কোনো হাসপাতালই ভর্তি নেয়নি আহাদকে।

এভাবে দীর্ঘ প্রায় তিন-চার ঘণ্টা যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কোনো হাসপাতালে ভর্তি করতে না পেরে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসার সময় রাত দেড়টার দিকে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নুর আল আহাদ।