শুধু মুশফিক নয় সব থেকে বেশি ‘অপ্রিয়’ ক্রিকেটারদের নিয়ে করা একাদশে আছেন রিকি পন্টিং, শেন ওয়ার্ন, মাইকেল ক্লার্কের মতো ক্রিকেটের বিজ্ঞাপনরা।
বিশ্বকাপকে সামনে কিছুদিন পর পরই ক্রিকেটের ওয়েবসাইটগুলো বিভিন্ন একাদশের তালিকা প্রকাশ করে। কিছুদিন আগে বিশ্বকাপের সেরা একদশের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল ইএসপিএন ক্রিকইনফো। যেখানে ছিলনা কোনো বাংলাদেশি।
বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়েও একটি একাদশ তৈরি করেছিল ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইট।
তবে এবারের একাদশটি বেশ চমকে দেওয়া। কেননা ভারতের ক্রিকেটীয় ওয়েবসাইট ক্রিকট্র্যাকার ঘোষণা করেছে ‘মোস্ট হেটেড ইলেভেন অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট’ বা ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অপ্রিয় একাদশ’। যেখানে মুশফিকুর রহিমের নাম দেখে চমকে উঠতে পারেন আপনিও।
বিতর্কিত এই একাদশের ওপেনিং স্লটে আছেন সালমান বাট ও জেসি রাইডার। ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় তাঁর। ওই ঘটনার পর শুধু পাকিস্তানি সমর্থকদের কাছেই নয়, বিশ্বজুড়েই ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, আরেক ওপেনার নিউজিল্যান্ডের হার্ডহিটার ব্যাটসম্যন জেসি রাইডার। মাথা গরম করে মাতাল হয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা বারে মারামারির মতো কাণ্ড ঘটানো ছিল তার হরহামেশা ঘটনা। ফলে ক্যারিয়ার বেশিদূর যেন নিয়ে যেতে পারেননি।
তিনে আছেন, তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের অন্যতম অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং। খেলোয়াড়ি জীবনে অ্যারোগ্যান্ট, আক্রমণাত্মক এ অধিনায়ক ছিলেন ভারতীয়দের চোখের বিষ। তাই তার হেটার্সদের সংখ্যাও কম নয়। ২০০৮ সালে সিডনি টেস্টে খেলোয়াড় এবং আম্পায়ারদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা সে সময়ের আলোচিত ঘটনা।
অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক অধিনায় ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ গ্রেগ চ্যাপেল খেলোয়াড়ি জীবন কিংবা কোচ হিসেবে কোনো সময়ই পছন্দের পাত্র ছিলেন না। ১৯৮১ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ছোট ভাই ট্রেভর চ্যাপেলকে দিয়ে আন্ডারআর্ম বল করিয়ে দুর্নাম কামান চ্যাপেল। আর ২০০৭ সালে ভারতের কোচ হয়ে পুরো দলটাকেই ওলট-পালট করে দিয়েছিলেন তিনি। বলা হয়, সৌরভ গাঙ্গুলির ক্যারিয়ার শেষের অন্যতম কারিগর তিনি।
ভারতের সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন খেলোয়াড় হিসেবে ভক্তদের অনেক প্রিয় হলেও ব্যক্তিজীবনে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ ছিলেন বরাবর। অভিনেত্রী সঙ্গীতা বিজলানিকে বিয়ে করার পরও একাধিক সম্পর্কে জড়ানো কিংবা ২০০০ সালে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে একেবারেই শেষ করে দেন নিজের ক্যারিয়ার।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী মাইকেল ক্লার্ক সামলাবেন দলটির মিডল অর্ডার। ২০০৭-০৮ মৌসুমে ভারত সফরে শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ আর অন্যান্য ভারতীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছিলেন জাতীয় দলের সতীর্থ মিচেল জনসন।
উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে তালিকায় মুশফিকুর রহিম রয়েছেন ভারতীয় সমর্থকদের অপছন্দের ক্রিকেটারদের তালিকার শীর্ষে। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ভারতের হারের পর একটি ছবি পোস্ট করে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন মুশফিক। এমন অপরিণত আচরণই তাকে ঘৃণিত করেছে ভারতীয়দের কাছে।
ভারতের সাবেক পেসার শ্রীশান্তের ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিং করে। কারণ স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত হয়ে ২০১৩ সালে আজীবন নিষিদ্ধ হন এই পেসার। অনেক আইন-আদালত করেও এই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হতে পারেননি তিনি।
সম্প্রতি আইপিএলে ইংল্যান্ডের জোস বাটলারকে ‘মানকাড’ আউট সমালোচিত হুইছিলেন ভারতের সর্বকালের সেরা অফস্পিনারদের অন্যতম রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ফলে অপ্রিয় একাদশে জায়গা পাকা করেন তিনি।
ফ্লিক্সিং কিলেঙ্কারিতে জড়িত আরেক পাকিস্তানি মোহাম্মদ আসিফ ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আমিরের সঙ্গে নিষিদ্ধ হন। এছাড়া ২০০৬ সালে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ নিয়ে ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হন। একইরকম কাণ্ড ঘটান ২০০৮ সালে আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে খেলতে গিয়েও। এভাবেই শেষ হয় তার ক্যারিয়ার।
লেগস্পিন জিনিয়াস অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন খেলোয়াড়ি জীবনে ‘ব্যাড বয়’ ব্যাডবয় তকমাটি ভালোভাবেই নিজের নামের সাথে জড়িয়েছিলেন। মাঠ এবং মাঠের বাইরে অনেক নেতিবাচক ঘটনাই তার এই খেতাবের জন্য দায়ী।। অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। মাদক গ্রহণের কারণে ২০০৩ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যৌন হয়রানির। ১৯৯৪ সালে ওঠে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ। ২০০৮ সালে তার ধুমপানের ছবি তোলায় দর্শক পেটান। এছাড়া নগ্ন তরুণীদের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে এখনও আলোচনায় থাকেন তিনি।

