অশান্ত দিল্লি, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮


অশান্ত দিল্লি, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী (সিএএ) আইনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় রাজধানী দিল্লিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জন। সেইসাথে আহত দুইশর অধিক মানুষ। খবর এনডিটিভির।

গত রোববার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) সমর্থক-বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বৃহস্পতিবারও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশোকনগরে মসজিদে হামলা-অগ্নিসংযোগ করেছে বহিরাগতরা। তারা বেছে বেছে শুধু এলাকার মুসলিমদের বাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় হিন্দুরা জানিয়েছেন, তারা বহিরাগতদের কাউকে চেনেন না এবং এমন পরিস্থিতিতে গৃহহীন মুসলিমদের পাশে থাকবেন সবাই।

গত মঙ্গলবার অশোকনগরের মুসলিম পরিবারগুলোর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এর আগে অন্তত এক হাজার জনের একটি গ্রুপ এলাকায় ঢুকে একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় মসজিদে অন্তত ২০ জন নামাজ পড়ছিলেন।

গত শনিবার জাফরাবাদে সিএএ-বিরোধীরা রাস্তা অবরোধ করে। রোববার থেকে পাল্টা সিএএর পক্ষে সমাবেশ শুরু হয়। এরপরেই দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ শুরু হয়। আর এই বিক্ষোভই সংঘাতে রূপ নেয় এবং দিল্লি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সহিংসতার ঘটনা তদন্তে দু’টি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। এদিকে, বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে ৪ সপ্তাহ সময় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে বাড়তি সময় চেয়েছে কেন্দ্র।

দিল্লিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের দ্বারস্থ হয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, মনমোহন সিংসহ অন্যান্য নেতারা। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতিকে স্বারকলিপি দিয়েছি। কেন্দ্র ও দিল্লি সরকার নীরব দর্শকের মতো আচরণ করছে। রাষ্ট্রপতি আমাদের দাবি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, এ ধরনের ঘটনা জাতীয় লজ্জা। তিনি আরও বলেন, গত চারদিন ধরে দিল্লিতে যা হচ্ছে, সে ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছি আমরা। খুবই উদ্বেগের বিষয়। কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।