নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকলে তাদের দলীয় প্রতীকও স্থগিত থাকবে এবং তারা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে, স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আওয়ামী লীগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দলটি দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ নিয়ে অংশ নিতে পারবে না।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) নির্বাচন ভবনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরপিও সংশোধনের বিস্তারিত
ইসি সানাউল্লাহ জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত: নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফেরারি ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞা: আদালত কর্তৃক ফেরারি ঘোষিত ব্যক্তিরা এবং সরকারি মালিকানাধীন বা ৫০ শতাংশের বেশি শেয়ার থাকা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
হলফনামায় তথ্য গোপনের শাস্তি: প্রার্থীদের হলফনামায় তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এমনকি, এই অপরাধে নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাদের পদ হারাতে পারেন।
জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি: নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ২০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০,০০০ টাকা করা হয়েছে।
একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ‘না’ ভোট: কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে ব্যালটে ‘না’ ভোটের অপশন থাকবে।
জোটবদ্ধ নির্বাচনে প্রতীক: জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন
ইভিএম বাতিল: ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত সকল বিধান বাতিল করা হয়েছে।
মিডিয়ার ভূমিকা: ভোট গণনার সময় মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।
ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা নিবন্ধন স্থগিত থাকলে তাদের দলীয় প্রতীকও সংরক্ষিত থাকবে না। এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকলে তারা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

