মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সারা বিশ্বে শুধুমাত্র ইরানই করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী এবং ওষুধ সহজে কিনতে পারছে না। এসব নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিতে জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দাবি সত্ত্বেও হোয়াইট হাউজ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে বলে সম্প্রতি ঘোষণা করেছে এবং ওয়াশিংটন সম্প্রতি তেহরানের ওপর বেশ কয়েকটি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তবে করোনার কারণে আমেরিকারও স্বাস্থ্যখাত পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। পর্যাপ্ত টেস্ট কিট, পিপিই, হ্যান্ড সেনিটাইজার এমনকি সাবানও নেই। ইতোমধ্যে নিউ জার্সি শহরের ডাক্তার ফ্রাঙ্ক গ্যাবরিন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিনা চিকিৎসায়।
জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে আমেরিকা বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করছে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছেন ৫ হাজার ৩শ’র বেশি।
আমেরিকার এ সংকটজনক মুহূর্তে দেশটির জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ছাত্ররা।
ফার্সনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ছাত্ররা তেহরানে আমেরিকার দেখাশোনাকারী সুইস দূতাবাসে জরুরি ওষুধ ও মানবিক ত্রাণ পাঠিয়েছে।
বিশ্ব মহামারী করোনার মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসন অবরোধ শিথিল না করায় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে এবং প্রয়োজনে মার্কিন জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে তারা এক গাড়ি ওষুধ ও মানবিক ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে।
এর আগে একই দূতাবাসের মাধ্যমে ইরানের ইসলামি ব্প্লিবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরিচালিত ‘বাকিতুল্লাহ মেডিকেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি’ কর্তৃপক্ষ আমেরিকার জনগণের জন্য ইরানের তৈরি করোনা শনাক্তকরণ কিট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে।
বাকিয়াতুল্লাহ মেডিক্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিভাগের প্রধান বলেছেন, আমেরিকার সরকার আমাদের শত্রু, জনগণ নয়। তাই এই দুঃসময়ে দেশটির জনগণের চিকিৎসার লক্ষ্যে কিটগুলো সুইজারল্যান্ড দূতাবাসে জমা দেওয়া হয়েছে।

