আসমারা, আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার রাজধানী। শহরটিতে মানুষের সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি। শহরটির বেশির ভাগই স্বল্প বেতনে বা আয়ে জীবনযাপন করেন।
এদিকে উচ্চ আমদানি কর ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের সংখ্যা হাতে গোনা। যে কারণে তাদের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান বাহন সাইকেল। আর এর সবচেয় ভালো ফল হলো এখানে কোনো যানজট নেই।
শিশু থেকে শুরু করে গৃহিণী ও বয়স্ক লোকজন সাইকেলে চলাফেরা করেন। যানজটবিহীন রাস্তা, সঙ্গে সুন্দর আবহাওয়া মিলে আসমারা হয়ে উঠেছে সাইকেলচালকদের স্বর্গরাজ্য। আসমারায় সাইকেল তাই নিছক যান নয়, বরং এটি তাদের সংস্কৃতির একটি অংশে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রদিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে, আসমারায় গেলে সবখানে সাইকেল মেরামতের দোকান চোখে পড়বে। অবশ্য ইরিত্রিয়ায় সাইকেলই প্রধান বাহন হয়ে ওঠার একটি ইতিহাস আছে।

দীর্ঘ ৩০ বছরের চেষ্টার পরে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীন হয়েছে দেশটি। স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পর অনেক দিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল ইরিত্রিয়া।
যে কারণে বিদেশ থেকে যানবাহন কিংবা জ্বালানি আমদানি করা দেশটির জন্য ভীষণ ব্যয়বহুল ছিল। বাধ্য হয়েই তাই সাইকেলের দিকে ঝুঁকতে হয়েছে দেশটির নাগরিকদের। এভাবে সাইকেল হয়ে উঠেছে যাতায়াতের প্রধান বাহন।
মজার বিষয় দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাও সাইক্লিং। প্রতিযোগিতামূলক সাইক্লিংয়ে অংশ নেওয়া তাদের জন্য এক প্রকার গর্বের বিষয়।
গ্র্যান্ড ট্যুর অব সাইক্লিংসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ইরিত্রিয়া জাতীয় সাইক্লিং দলের সাফল্য দেখলেই প্রমাণ এর পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের জুলাইতে ইথিওপিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তির পর ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই দেশের সীমান্ত খুলে গেছে। এতে করে ইথিওপিয়া থেকে সস্তায় পণ্য আমদানির সুযোগ হওয়ায় ইরিত্রিয়ার মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার খরচ অনেকটাই কমেছে।

