সম্প্রতি আঘাত হানা শক্তিশালী সাইক্লোন ইডাই এবং বন্যার কারণে আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফিলিপ এনুসি।
গত সোমবার তিনি এই মন্তব্য করেন।
এছাড়াও সাইক্লোনটি আঘাত হেনেছে আফ্রিকার আরো দুই দেশ জিম্বাবুয়ে ও মালাওয়িতে। এসব দেশেও ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সরকারি দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত ৮৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট রেডিও মোজাম্বিকে বলেন, তিনি সাইক্লোন আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে নদী প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগুলো ঠিক মতো বোঝা যাচ্ছে না, পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে মৃতদেহ। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে, সাইক্লোন ইডাইয়ের আঘাতে জিম্বাবুয়েতে এখন পর্যন্ত দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৯৮ জন নিহত এবং ২০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। অন্যদিকে মালাওয়িতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে নিহতের সংখ্যা ৫৬-তে দাঁড়িয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এসব এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও এসব এলাকার বাড়িঘরগুলোর কাঠামো মজবুত নয়।পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেড ক্রসের একজন কর্মকর্তা।
মোজাম্বিকের অন্যতম বৃহত্তম শহর বেইরায় সাইক্লোন আক্রান্ত এলাকায় বাঁধ ভেঙে পড়ার কারণে উদ্ধারে অভিযানে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এসব কারণে পানিতে থাকা বিপজ্জনক ধাতব ও বর্জ্য পদার্থ থেকে মানুষকে নিরাপদে রাখতে উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছেন। কোথাও আবার নৌকার ব্যাবহার শুরু করেছে অধিবাসীরা। আবার রাস্তা পারাপারের জন্য দেয়া হয়েছে গাছের গুঁড়ি।
এদিকে সাইক্লোন আক্রান্ত জিম্বাবুয়ের চিমানিমানিতে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। অধিক পরিমান বৃষ্টির কারণে এলাকাটি পুরো দেশ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পুরো এলাকাটি ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ এবং পানি, স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান সুনিশ্চিত করার জন্য।

