রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে পৌঁছেছে। ভোররাতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৯ বছরের শিশু নাফিসের মৃত্যুর পর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনায় ৫৭ জন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শিশু নাফিস মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যায়। এর আগে, তার বোনও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারায়। এই দুর্ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগই শিশু শিক্ষার্থী, যা দেশজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, বর্তমানে ৪৪ জন আহত এই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, “আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল কাজ করছে। প্রতিটি রোগীর কেস পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।” তিনি জানান, আহতদের ৮ জন ‘ক্রিটিক্যাল’, ১৩ জন ‘সিবিআর’ (সম্পূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন), এবং ২৩ জন ‘ইন্টারমিডিয়েট’ শ্রেণিতে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “রোগীদের অবস্থা প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হচ্ছে। আমরা প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর মিটিং করে চিকিৎসা পরিকল্পনা আপডেট করছি।”
ডা. নাসির জানান, সিঙ্গাপুরের মেডিকেল দল আরও কয়েকদিন আহতদের পর্যবেক্ষণ করবে। তবে, বর্তমানে কোনো রোগীকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় ৫৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ৪৪ জন এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৩ জন রয়েছেন। জরুরি হটলাইন নম্বর (০১৯৪৯-০৪৩৬৯৭) সক্রিয় রয়েছে।
মঙ্গলবার আইএসপিআর জানিয়েছিল, এই দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে নিহতের সংখ্যা ২৯ এবং আহতের সংখ্যা সংশোধিত হয়েছে।

